সচিবালয়ে সরকারের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের পর এক মাসের জন্য সরকারি নিয়োগে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হলেও তা না মানার ঘোষণা দিয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি (ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র) এলাকায় অবস্থান নেওয়া আন্দোলনকারীরা। তবে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা টিএসসি এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন।
সচিবালয়ে বৈঠকের পর যখন ব্রিফিংয়ে আন্দোলন স্থগিতের সিদ্ধান্ত জানানো হয়, তখন টিএসসি এলাকায় আন্দোলনকারীরা স্লোগানে মুখর ছিল। তাদের বক্তব্য, দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। সে সময় ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীরা মারমুখী অবস্থান নেয়। অনেকের হাতে তখন লাঠি ও রড দেখা যায়। ছোট আকারে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া হয়।
তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেওয়া শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা ছোট ছোট অংশে ভাগ হয়ে যান। এরমধ্যে রোকেয়া হলের সামনের জমায়েত থেকে সোমবারের মতো আন্দোলন স্থগিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। মঙ্গলবার (১০ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে তারা আবারও জড়ো হবেন বলে জানানো হয়। এ সময় রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীদের সম্ভাব্য খারাপ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতেও দেখা যায়।
রাজু ভাস্কর্যের সামনে জমায়েতে যোগ দেওয়া বিপাশা চৌধুরী নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত তারা পরিস্থিতি দেখবেন। এরমধ্যে কোটা সংস্কারে ইতিবাচক পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ১৬ এপ্রিল ‘ঢাকা চলো’ কর্মসূচি পালন করা হবে। সারাদেশ থেকে ৫০ হাজার শিক্ষার্থী ওই কর্মসূচিতে যোগ দেবেন।
এরই মধ্যে রাত ৯টার পর থেকে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমতে থাকে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আর কোনও আন্দোলনকারীকে মাঠে দেখা যায়নি। তবে শাহবাগ ও দোয়েল চত্বরে পুলিশের উপস্থিতি দেখা গেছে।
সরকারের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রতিনিধি দল ফিরে এসে সবাইকে আন্দোলন স্থগিতের সিদ্ধান্ত জানালে সাধারণ আন্দোলনকারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা আন্দোলন স্থগিতের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেন। এ সময় ‘ভুয়া’, ‘ভুয়া’ স্লোগান দেওয়া হয়। তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। আন্দোলনকারী নেতাদের কথা কেউ শুনতে চাইছেন না।
এদিকে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ ও বাংলা একাডেমির দিকে বোল্ডার দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে রেখেছেন। তাদের আশঙ্কা, পুলিশ গাড়ি নিয়ে ঢুকে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করতে পারে। চারুকলার পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির সামনে রাস্তাতেও তারা ব্যারিকেড দিয়ে রাখেন। রাস্তার কোনও কোনও স্থানে ব্যারিকেড দিয়ে ছোট ছোট আকারে আগুনও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাত ১০টা নাগাদ ওই সব প্রতিবন্ধকতা থাকতে দেখা গেছে।
আরও পড়ুন:
আন্দোলন স্থগিতের সিদ্ধান্ত মানছেন না টিএসসিতে অবস্থানকারীরা
কোটা সংস্কার প্রয়োজন: জাফর ইকবাল
কোটা সংস্কার আন্দোলন কতটা যৌক্তিক?
কোটা সংস্কার আন্দোলন ৭ মে পর্যন্ত স্থগিত
সেতুমন্ত্রীর কাছে কোটা সংস্কার দাবিতে পাঁচ দফা
কোটা সংস্কারের আন্দোলনে হামলা, প্রতিবাদে ৩ ছাত্রলীগ নেতার পদত্যাগ
ঢাবি উপাচার্যের বাসভবনে হামলা ’৭১-এর তাণ্ডবকেও হার মানিয়েছে: নানক
খালি কোটা পূরণের প্রজ্ঞাপন নিয়েই অসন্তোষ, পরীক্ষা-নিরীক্ষার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর