সফররত ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব বিজয় গোখলে বলেন, বাংলাদেশকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পূরণ করতে চান। বিজয় গোখলে সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনে শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান।
প্রতিবেশী দেশের এই পররাষ্ট্র সচিবকে স্বাগত জানিয়ে শেখ হাসিনা দু’দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং ’৭১-এ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন। এ সময় ঝুলে থাকা তিস্তা চুক্তির কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারত আলোচনার মধ্য দিয়ে অনেক সমস্যার সফল সমাধান করেছে। এখন শুধু একটি সমস্যার সমাধানই বাকি রয়েছে।’
লন্ডনে কমনওয়েথভুক্ত দেশগুলোর সরকার প্রধানদের আসন্ন বৈঠকে শেখ হাসিনার সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হওয়ার কথাও বলেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকের সঙ্গে সোমবার সকালে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কথা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় উল্লেখ করেন বিজয় গোখলে।
বাংলাদেশে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেওয়ায় যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, সে সম্পর্কে ভারতের অবগত থাকার কথা জানান তিনি। মিয়ানমারকে নিজ দেশের নাগরিকদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিতে ভারত ধারাবাহিকভাবে আহবান জানাচ্ছে বলেও বিজয় গোখলে প্রধানমন্ত্রীকে বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা চাই ভারত মিয়ানমারের ওপর আরও চাপ দিক।’
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে, এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব নারী ও শিশুদের জন্য ফিল্ড হাসপাতাল নির্মাণের কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘এজন্য ভারতের পক্ষে যতটুকু করা সম্ভব তার সবই করা হবে।’
আসন্ন বর্ষা মৌসুমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভূমিধসের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা এক লাখ মিয়ানমার নাগরিক রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তরের কথা বলেন।
এই সাক্ষাতের সময় মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক এবং বাংলাদেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত হর্ষবর্ধন শ্রীংলা উপস্থিত ছিলেন।