কারও উসকানির ফাঁদে পা দেবেন না: তথ্যমন্ত্রী

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুগণমাধ্যমে সঠিকভাবে সংবাদ প্রকাশিত-প্রচারিত হলে কোটাপদ্ধতি নিয়ে সব বিভ্রান্তি ও প্রশ্নের অবসান ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, ‘কোটা নিয়ে ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো যাবে। আপনারা অশান্তি তৈরির পথ পরিহার করুন। কারও উসকানির ফাঁদে পা দেবেন না। কোনও গুজবে কান দেবেন না। সাধারণ জনগণ জিম্মি হয় বা দুর্ভোগে পতিত হয়, এমন কর্মসূচি  দেবেন না।’ মঙ্গলবার (১০ এপ্রিল) সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মেধা কোটা ৪৫ শতাংশ হলেও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপেই বাস্তবে তা ৭০ শতাংশ। নাশকতা-অন্তর্ঘাত শিক্ষার্থীদের কাজ নয়। প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা রাখুন, কোটাপদ্ধতি নিয়ে বিভ্রান্তি পরিহার করুন। কোটাপদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনের মধ্যে সুপরিকল্পিতভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে গভীর রাতে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, ছাত্র-পুলিশ সংঘর্ষে ছাত্রছাত্রী আহত হওয়া, সড়ক-মহাসড়ক অবরোধে জনদুর্ভোগসহ অনাকাঙ্ক্ষিত দুঃখজনক সব ঘটনায় আমরা অত্যন্ত ব্যথিত, মর্মাহত একই সঙ্গে উদ্বিগ্নও।’

হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘কোটা পদ্ধতি স্থায়ী বা চিরস্থায়ী কোনও বন্দোবস্ত না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যেই নতুন করে কোটা পদ্ধতি পরীক্ষা-নিরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারের পক্ষ সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বসে আলোচনা করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়েই কি মূল আপত্তি? মুক্তিযোদ্ধা কোটা তাদের গায়ে জ্বালা ধরিয়েছে। দেশের সব নাগরিকের রাষ্ট্রের কাছে চাওয়া-পাওয়া থাকলেও মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রের কাছে কোনও চাওয়া পাওয়া থাকতে পারবে না। ওসব ব্যক্তি শুধু মুক্তিযোদ্ধাদেরই নয়, মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও চরম অবমাননাকর কটূক্তি করে চলেছে।’

হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘মেধা কোটা ৪৫ শতাংশ হলেও, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপেই বাস্তবে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ৭০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তাই কোটা পদ্ধতি নিয়ে বিভ্রান্তির কোনও সুযোগ নেই। মুক্তিযোদ্ধাসহ সব কোটার প্রার্থীদেরই সবার সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। নারী, প্রতিবন্ধী, মুক্তিযোদ্ধাসহ অনগ্রসর, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে টেনে তোলার জন্য কোটা প্রথা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। এ রকম পরিস্থিতিতে সন্তানতুল্য ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে অনুরোধ করবো, আপনারা প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা রাখুন।’

ইনু বলেন, ‘শেখ হাসিনা আপনাদেরই প্রধানমন্ত্রী। তিনি আপনাদের প্রতি কোনও অন্যায় বা অবিচার হতে দেবেন না। কোনও অন্যায় বা অবিচার হলে তিনি তার বিচার করবেন, প্রতিকার করবেন।’