বুধবার (১২ এপ্রিল) সকালে ট্রাস্টের ‘কৈবর্ত’ সভাকক্ষে তিন দিনব্যাপী একটি কর্মশালা থেকে বৈশাখী মাঠের নকশা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়। কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রায়েরবাজার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় আড়াই লাখ জনগোষ্ঠীর জন্য খেলার একমাত্র স্থান এই বৈশাখী মাঠ। কিন্তু নারী, প্রতিবন্ধী ও বিশেষ করে পাঁচ বছরের চেয়ে কম বয়সের শিশুরা এখানে খেলার কোনও সুযোগ পায় না। কিন্তু স্থানীয়দের বিনোদন, খেলাধুলা, সামাজিকীকরণ, মানসিক প্রশান্তি ও শরীরচর্চার গুরুত্ব বিবেচনায় মাঠের উন্নয়ন প্রয়োজন এবং এক্ষেত্রে স্থানীয়দের চাহিদাগুলো প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন।
স্থপতি ইশতিয়াক জহির বলেন, স্থপতি বা নগর পরিকল্পনাবিদরা এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা না করেই নকশা করে ফেলেন। ফলে এলাকাবাসীর চাহিদার প্রতিফলন থাকে না। মাইনক্রাফ্ট কর্মশালার মাধ্যমে এলাকাবাসী, বিশেষ করে শিশুদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে মাঠ-পার্কের উন্নয়নে আমরা একই পদ্ধতি অবলম্বন করবো।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ডেপুটি টাউন প্ল্যানার হাসিবুল কবীর বলেন, মাইনক্রাফ্ট কর্মশালার আয়োজনটি অত্যন্ত চমৎকার। কারণ, এর মাধ্যমে এলাকার উন্নয়নে স্থানীয়দের মতামতের প্রতিফলন ঘটানোর সুযোগ রয়েছে। মাইনক্রাফটের মাধ্যমে শিশুরা যে নকশা তৈরি করবে, আমরা তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করবো।
ইউএনহ্যাবিটেটের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী ও গণপরিসর বিশেষজ্ঞ সোহেল রানা বলেন, আমরা গণপরিসর উন্নয়নে ভিন্নধর্মী কিছু করার প্রত্যয় থেকেই মাইনক্রাফ্ট শুরু করি। বিশ্বের ৫০টি দেশে আমরা কাজ করেছি। বাংলাদেশে এটি আমাদের দ্বিতীয় কাজ। এ কর্মশালায় আমরা বৈশাখী খেলার মাঠের বিভিন্ন সমস্যা ও সেগুলোর সমাধান খুঁজে বের করবো। পাশাপাশি এলাকাবাসী মাঠে কী দেখতে চান, তার একটি নকশা তৈরি করবেন। আমরা সফল হলে অন্যান্য পার্ক খেলার মাঠ উন্নয়নের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হবে।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মারুফ হোসেন।
আরও পড়ুন-
কোটা সংস্কার আন্দোলনের অবসান হচ্ছে
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই কোটা বাতিলের ঘোষণা