বৈশাখী খেলার মাঠের নকশা প্রণয়নে সম্পৃক্ত হলেন স্থানীয়রা

বৈশাখী খেলার মাঠ পরিদর্শন করছেন স্থানীয়রামাইনক্রাফ্ট কর্মশালার মাধ্যমে স্থানীয়দের অংশগ্রহণে রায়েরবাজার বৈশাখী খেলার মাঠের নকশা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। রাজধানী ঢাকার খেলার মাঠ ও পার্কগুলোর উন্নয়ন কাজে স্থানীয়দের মতামত না নিয়েই নকশা প্রণয়ন করা হচ্ছে—এমন অভিযোগে ওঠায় এই কাজে স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। হেলথব্রিজ-কানাডা, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট, ব্লক বাই ব্লক এবং ইউএনহ্যাবিটেট সম্মিলিতভাবে মাঠটির নকশা প্রণয়নের এই কাজ করছে।
বুধবার (১২ এপ্রিল) সকালে ট্রাস্টের ‘কৈবর্ত’ সভাকক্ষে তিন দিনব্যাপী একটি কর্মশালা থেকে বৈশাখী মাঠের নকশা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়। কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রায়েরবাজার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় আড়াই লাখ জনগোষ্ঠীর জন্য খেলার একমাত্র স্থান এই বৈশাখী মাঠ। কিন্তু নারী, প্রতিবন্ধী ও বিশেষ করে পাঁচ বছরের চেয়ে কম বয়সের শিশুরা এখানে খেলার কোনও সুযোগ পায় না। কিন্তু স্থানীয়দের বিনোদন, খেলাধুলা, সামাজিকীকরণ, মানসিক প্রশান্তি ও শরীরচর্চার গুরুত্ব বিবেচনায় মাঠের উন্নয়ন প্রয়োজন এবং এক্ষেত্রে স্থানীয়দের চাহিদাগুলো প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন।
মাঠের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার কাজে যোগ দিয়েছেন স্থানীয় শিশু-কিশোররাকর্মশালায় সূচনা বক্তব্যে ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী বলেন, আমরা অনেক দিন ধরেই বৈশাখী খেলার মাঠটিকে শিশুবান্ধব ও সবার জন্য প্রবেশগম্য করার লক্ষ্যে কাজ করছি। এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে মাঠটির উন্নয়ন সম্ভব। এ কর্মশালায় আমরা বৈশাখী মাঠকে বিশেষ করে শিশু, নারী ও প্রতিবন্ধীদের উপযোগী নকশায় গড়ে তোলার চেষ্টা করবো।
স্থপতি ইশতিয়াক জহির বলেন, স্থপতি বা নগর পরিকল্পনাবিদরা এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা না করেই নকশা করে ফেলেন। ফলে এলাকাবাসীর চাহিদার প্রতিফলন থাকে না। মাইনক্রাফ্ট কর্মশালার মাধ্যমে এলাকাবাসী, বিশেষ করে শিশুদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে মাঠ-পার্কের উন্নয়নে আমরা একই পদ্ধতি অবলম্বন করবো।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ডেপুটি টাউন প্ল্যানার হাসিবুল কবীর বলেন, মাইনক্রাফ্ট কর্মশালার আয়োজনটি অত্যন্ত চমৎকার। কারণ, এর মাধ্যমে এলাকার উন্নয়নে স্থানীয়দের মতামতের প্রতিফলন ঘটানোর সুযোগ রয়েছে। মাইনক্রাফটের মাধ্যমে শিশুরা যে নকশা তৈরি করবে, আমরা তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করবো।
বৈশাখী মাঠ নিয়ে মত দিচ্ছে একটু শিশুঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তারিক বিন ইউসুফ বলেন, পার্ক বা খেলার মাঠ উন্নয়নে এলাকাবাসীর অংশগ্রহণ আমাদের কাছে একদম নতুন একটি বিষয়। তবে এটা খুবই প্রয়োজনীয়। আমরা এ কর্মশালা থেকে যে নকশা পাবো, সেটাই বাস্তবায়নের চেষ্টা করবো। এই মাঠের উন্নয়নের পাশাপাশি এলাকাবাসীকে এর রক্ষণাবেক্ষণেও ভূমিকা রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইউএনহ্যাবিটেটের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী ও গণপরিসর বিশেষজ্ঞ সোহেল রানা বলেন, আমরা গণপরিসর উন্নয়নে ভিন্নধর্মী কিছু করার প্রত্যয় থেকেই মাইনক্রাফ্ট শুরু করি। বিশ্বের ৫০টি দেশে আমরা কাজ করেছি। বাংলাদেশে এটি আমাদের দ্বিতীয় কাজ। এ কর্মশালায় আমরা বৈশাখী খেলার মাঠের বিভিন্ন সমস্যা ও সেগুলোর সমাধান খুঁজে বের করবো। পাশাপাশি এলাকাবাসী মাঠে কী দেখতে চান, তার একটি নকশা তৈরি করবেন। আমরা সফল হলে অন্যান্য পার্ক খেলার মাঠ উন্নয়নের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হবে।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মারুফ হোসেন।
আরও পড়ুন-
কোটা সংস্কার আন্দোলনের অবসান হচ্ছে
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই কোটা বাতিলের ঘোষণা