বৃহস্পতিবার (১২ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকেই ঢাবি’র কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে আন্দোলনকারীরা জড়ো হতে থাকেন। তবে গত কয়েকদিনের তুলনায় ক্যাম্পাসে তাদের উপস্থিতি অনেক কম। সাড়ে ১০টা নাগাদ দুই আড়াইশ জনকে সেখানে দেখা গেছে। গ্রন্থাগারের সামনে থেকে আন্দোলনকারীরা রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন।
আন্দোলন সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা গেছে, সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী কোটা ব্যবস্থা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামানের বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরসহ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সহিংসতার ঘটনায় শাহবাগ থানায় হওয়া চারটি মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হতে পারে। একই সঙ্গে আনন্দ মিছিল ও প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর কর্মসূচি নেওয়া হতে পারে।
বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সমন্বয়ক হাসান আল মামুন জানান, ‘শিগগিরই আমরা আন্দোলন বিষয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত জানাবো।’
এদিকে বুধবার রাতে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক রাশেদ খান জানান, আন্দোলন স্থগিত করা হবে। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ৭১-কে রাশেদ খান বলেন, ‘আমরা কিছু মানুষের সঙ্গে পরামর্শ করলাম। তারা বললেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা যথেষ্ট ভালো এবং গ্রহণযোগ্য। এরপর আমরাও সিদ্ধান্ত নিলাম, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন, আমরা সে সিদ্ধান্ত মোতাবেক চলবো।’
আন্দোলন থেকে কি সরে আসছেন–এমন প্রশ্নের জবাবে সম্মতি প্রকাশ করে রাশেদ খান আরও বলেন, ‘বৃহস্পতিবার আমাদের একটা প্রেস ব্রিফিং আছে, সেখানে আমরা সবকিছু আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবো। অন্যান্য বিষয়ে আমাদের আরও কিছু কথা বলার আছে, সেগুলো বলবো।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার বিকালে সংসদে সরকারি চাকরির কোটা প্রসঙ্গে বক্তব্য দেন। তার এই বক্তব্যের পর সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের পক্ষ থেকে এর যুগ্ম আহ্বায়ক নূরুল হক জানান, তারা রাতে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করবেন। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে রাজু ভাস্কর্যের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনের মতামত জানাবেন।
বুধবার বিকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কোটা ব্যবস্থা বাতিল করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন পর তো আবার আরেক দল এসে বলবে, আবার সংস্কার চাই। তো কোটা থাকলেই সংস্কার। আর না থাকলে সংস্কারের কোনও ঝামেলাই নাই। কাজেই কোটা পদ্ধতি থাকারই দরকার নাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণ মানুষ বারবার কষ্ট পাবে কেন? এই বারবার কষ্ট বন্ধ করার জন্য আর বারবার এই আন্দোলন-ঝামেলা মেটানোর জন্য কোটা পদ্ধতিই বাতিল। পরিষ্কার কথা। আমি এটাই মনে করি, সেটা হলেই ভালো।’
বুধবার (১১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রসঙ্গত, কোটা সংস্কারের দাবিতে গত ৮ এপ্রিল দুপুর ২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রার্থীদের পদযাত্রা শুরু হয়। পরে রাজু ভাস্কর্য হয়ে নীলক্ষেত ও কাঁটাবন ঘুরে পদযাত্রাটি শাহবাগ মোড়ে আসে। বিকাল ৩টা থেকে পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা সেখানেই অবস্থান নেন। এ সময় শাহবাগের আশপাশের সড়ক দিয়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অবস্থান ধরে রাখলে রাত পৌনে ৮টার দিকে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এ সময় কয়েকজনকে আটকও করে পুলিশ। এরপরই পুলিশ আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দেয়। এ সময় পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশের অ্যাকশনের মুখে আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও টিএসসি এলাকায়।
পরে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের একটি দল আলোচনায় বসে। তিনি তাদের দাবি যাচাই-বাছাই করার জন্য ৭ মে পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রাখতে বলেন। তবে আন্দোলনকারীরা তা উপেক্ষা করেই তাদের কর্মসূচি চালিয়ে যেতে থাকেন।