স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যুক্ত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে জাতীয় সংসদে প্রস্তাব পাস করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ১৪৭ ধারায় সাধারণ আলোচনা শেষে সর্বসম্মতভাবে এই প্রস্তাব পাস হয়। এদিন ছিল দশম সংসদের ২০তম অধিবেশনের শেষ দিন।
স্বতন্ত্র সাংসদ রুস্তম আলী ফরাজী এই ধন্যবাদ প্রস্তাব আনেন।
প্রস্তাবে বলা হয়, ‘জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের উন্নয়ন নীতি বিষয়ক কমিটি (সিপিডি) বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের অভিযাত্রায় যুক্ত করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানানো হোক।’
এই প্রস্তাবের ওপর ২৯ জন সাংসদ আলোচনায় অংশ নেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশে প্রবেশের যোগ্যতা দেশের জন্যে বড় অর্জন। তবে এই অর্জন অর্থনীতিকে অনেক বেশি ঝুঁকির সম্মুখীন করে দেবে।’ তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন, কিন্তু স্বাধীনতাকে সুসংহত করে যেতে পারেননি। সেটা করেছেন প্রসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি জাতির পিতার স্বপ্ন বস্তবায়নে চেষ্টা ও উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তারই ফলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২১ বছর পর জাতীয় পার্টির সহযোগিতায় ক্ষমতায় এসেছিলেন। জাতীয় পার্টিও এই উন্নয়েনের সহযোগী।’
সুশাসন প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিয়ে রওশন বলেন, ‘সুশাসন প্রতিষ্ঠা না হলে এই উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার অর্জন করা যাবে না। সুশাসন দরকর। সুশাসন ছাড়া গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে না। ব্যাংক খাতে যে নৈরাজ্য চলছে, তা নিয়ে চিন্তা করতে হবে। অর্জন ধরে রেখে এগিয়ে যেতে হবে। তবেই স্বীকৃতিটা পাওয়া যাবে। এই অর্জনের ক্ষেত্রে ঝুঁকিও আছে। বৈদেশিক অনুদান ও ঋণ সুবিধা কমে যাবে। এটা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ।’
রওশন বলেন, ‘আমরা দেশের জন্য, জনগণের জন্য কাজ করতে চাই। সেজন্য গত নিরাচনে অংশ নিয়েছি। আমরা চাই দেশ ভালো চলুক। সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর সব উদ্যোগকে সহযোগিতা করি।’
অন্যদের মধ্যে সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সরকারি দলের সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুল মতিন খসরু, দীপু মনি, জাসদের শিরিন আকতার, তরিকত ফেডারেশনের নজিুল বশর মাইজভান্ডারি প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।