বৃষ্টিতে আটকে পড়া মানুষ যেন বাসায় ফিরতে পারে সেজন্য কাকরাইল-মৎস্য ভবন-প্রেসক্লাব-পল্টন রুট যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। এই রুটে সকাল থেকে যান চলাচল বন্ধ ছিল।
স্ত্রীসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে হেঁটে যাচ্ছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তা নাজমুল হোসেন। বৃষ্টির জন্য আর এগুতে পারেননি। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভাই আর আগাতে পারলাম না। পাঁচটার পর তো নাকি ঢুকতে দেবে না। সাড়ে ৪টা থেকে এখানে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি থামার অপেক্ষা করছি। আর মনে হয় সম্ভব হবে না। নাজমুল হোসেনের মতো আরও অনেকে রাজধানীতে বৃষ্টির মধ্যে আটকা পড়েছেন।’
আরও পড়ুন: মঙ্গল শোভাযাত্রায় কম জনসমাগম
এদিকে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার রাজধানীসহ দেশের অনেক এলাকায় দিনের যেকোনো সময় ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে।আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস জানান, বাতাসে প্রচুর আর্দ্রতা ছিল এবং একই সঙ্গে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছিল। তাই এই বৃষ্টি। এর আগে শুক্রবার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশে অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে রয়েছে। এর প্রভাবে দুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টি হচ্ছে। শুক্রবারও দেশের বেশিরভাগ এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে।
নববর্ষ উদযাপন করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, বাংলা একাডেমি, শাহবাগ, রমনা পার্ক, ধানমন্ডি, বনানী, উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বৃষ্টির কারণে দর্শনার্থীদের চলে যেতে দেখা গেছে। এছাড়া এসব অনুষ্ঠানকে ঘিরে রাস্তায় বসে থাকা বাহারি পণ্যের বিক্রেতাদেরও চলে যেতে দেখা গেছে। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গতরাতে আলপনা এঁকে বাংলা নতুন বর্ষ উদযাপনের ব্যবস্থা করা হয়। সকাল থেকে সেই আলপনাকে সামনে রেখে মানুষজন দলবেঁধে ছবি তোলেন। দুপুরে ফাঁকা রাস্তায় বসে ছবি তুলছেন অনেকে, রাস্তায় বাইক রেখে বন্ধুবান্ধব সদলবলে, আবার কেউ কেউ সপরিবারে ছবি তোলায় ব্যস্ত সময় কাটালেও বৃষ্টি নামার সঙ্গে সঙ্গে তাদের সব আনন্দই ভেস্তে গেছে।
রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, হাতিরঝিল, রবীন্দ্র সরোবরসহ রাজধানীর বিভিন্ন উন্মুক্ত স্থানে পহেলা বৈশাখের উৎসব সম্পর্কে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বেশকিছু নিরাপত্তা ও ট্রাফিক সংক্রান্ত নির্দেশনা ছিল। এসব নির্দেশনা মেনেই এই বছর বাংলা বর্ষবরণের অনুষ্ঠান উদযাপন করেছে মানুষ।
ডিএমপির নির্দেশনা ছিল পহেলা বৈশাখে রমনা পার্ক ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ ও বাইরের পথগুলোতে নববর্ষের দিন বিকাল ৫টার পর উন্মুক্ত স্থানে কোনও অনুষ্ঠান করা যাবে না। সেই জন্য বিকাল ৫টার পর থেকে রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রবীন্দ্র সরোবর ও হাতিরঝিলে অনুষ্ঠান বন্ধ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাগিদ দেয়। তবে প্রশাসনের এই নির্দেশ মেনেই মানুষ বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে অনুষ্ঠানস্থল ছাড়তে শুরু করে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিকাল ৫ টার পর রমনা পার্ক ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রবেশ ও বাইর হওয়ার সবগুলো গেইটই বের হওয়ার জন্য খুলে দেওয়া হয়। তবে এসময় বৃষ্টি থাকায় অনেকে দ্রুত অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের হয়ে রাস্তার পাশে থাকা ভবনের দেয়াল ও গাছের নিচে আশ্রয় নেন। এছাড়া অনেকে অনুষ্ঠানস্থলের পাশে থাকা ব্যানার ও প্ল্যাকাড খুলে সেটি মাথার ওপরে ধরেন।
এদিকে, মৎসভবন মোড়ে থাকা মেঘনা পেট্র্রোল পাম্পের নিচে গিয়েও অসংখ্য মানুষ ঠাঁই নেয়। এসব এলাকার বাইরে কোথাও যাদের ঠাঁই মিলছিলনা, তারা দৌড়ে ঠাঁই খোঁজার চেষ্টা করেন।
যারা অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের হতে পারেননি। তারা ভেতরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কন্ট্রোল রুমে অবস্থান নেন।
রমনায় বৈশাখের অনুষ্ঠান উপভোগ করতে মুগদার মান্ডা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে এসেছেন সুমাইয়া সুমী। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা দুপুরে এখানে এসেছি। সারাদিন রমনায় সময় কাটানোর পর বের হচ্ছিলাম হাতিরঝিলের উদ্দেশে। কিন্তু বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল। এখন তো আমরা ভিজেই একাকার। যাই হোক এখন বাসায় চলে যাবো।’
রমনা এলাকার সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই বছর বর্ষবরণের অনুষ্ঠানস্থলগুলোতে কোনও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি হয়নি। পুলিশের সব ইউনিটের সদস্যরা এখানে দায়িত্বপালন করেছে। সেই সঙ্গে অনুষ্ঠানস্থলে আসা মানুষও পুলিশকে সহযোগিতা করেছে। সব মিলিয়ে এবারের বর্ষবরণে অনুষ্ঠান মানুষ খুব শৃঙ্খলার সঙ্গে পালান করেছে।’