‘এই শহরে তো আর মেলা নেই, তাই চিড়িয়াখানায় এলাম’

হাতিরঝিলে বৈশাখী আমেজ‘বৈশাখ মানেই আনন্দ। বিশেষ করে মেলায় ঘুরে বেড়ানো। কিন্তু এই শহরে তো আর মেলা নেই, তাই ছেলেদের নিয়ে চিড়িয়াখানায় এলাম।’ বাংলা ট্রিবিউনকে এসব কথা বলেন রাহিতুল ইসলাম। রাজধানীর রামপুরা থেকে দুই ছেলেকে নিয়ে চিড়িয়াখানায় আসেন তিনি।

বৈশাখী উৎসবে আজ মেতেছিল নগরবাসী। মূল সড়ক থেকে গলিপথ, সবখানে মানুষের সাজসজ্জা দেখলেই তা বোঝা যায়। উৎসবে নতুন বছরকে ঘিরে উৎসাহ ছিল সবার মাঝে। শুধু রমনা, শাহবাগ নয়; শহরজুড়েই বৈশাখী আয়োজন দেখা গেছে। বিনোদন কেন্দ্রগুলোতেও ছিল মানুষের ভিড়।

রাজধানীর মিরপুর চিড়িয়াখানা আর জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানেও দেখা গেছে মানুষের ভিড়। দলবেঁধে মানুষ প্রবেশ করেছেন। সবার পোশাকে বৈশাখী ছোঁয়া। চিড়িয়াখানায় প্রবেশমুখের দোকানগুলোতেও বেজেছে বৈশাখী গান।

চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের ভিড়সবার সাজসজ্জায় বৈশাখের ছাপ থাকলেও তরুণদের মধ্যে তা বেশি ছিল। ছেলেরা পাঞ্জাবি আর মেয়েরা নানা রঙের শাড়ি পরেন। ছোটদের গায়েও রঙিন পোশাক ছিল। রাজধানীর কোলাহল থেকে দূরে ছুটতে অনেকেই গেছেন বেড়িবাঁধ এলাকায়। মিরপুর থেকে উত্তরা বেড়িবাঁধ সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছিল মানুষের ভিড়। বিশেষ করে বেড়িবাঁধ এলাকার ছোট-ছোট পার্ক, রেস্টুরেন্ট ও খোলা জায়গায়। চলছে দলবেঁধে আড্ডা আর হৈ-হুল্লোড়।

আরও পড়ুন: হঠাৎ বৃষ্টিতে বৈশাখী উৎসবে ভাটা (ভিডিও)

বেড়িবাঁধের বটতলায় কথা হয় আড্ডায় মেতে ওঠা একদল তরুণের সঙ্গে। তাদের মধ্য থেকে রাজমুল ইসলাম জানান, দলবেঁধে এসেছেন আগারগাঁও থেকে। পুরো শহরেই ঘুরবেন, তবে শুরুটা হয়েছে বেড়িবাঁধ থেকে।

পহেলা বৈশাখ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার উৎসব। তবে সব স্থানেই চোখে পড়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি। বেলা বাড়ার সঙ্গে গ্রীষ্মের উত্তাপ বাড়লেও মানুষের আনন্দ থেমে থাকেনি। রাজধানীর হাতিরঝিলেও ছিল মানুষের আনাগোনা।

চন্দ্রিমা উদ্যানে দর্শনার্থীদের ঘোরাঘুরিএছাড়া রাজধানীতে শিশুপার্ক, শিশুমেলা, ধানমন্ডি লেকেও ছিল মানুষের ভিড়। চন্দ্রিমা উদ্যান, সংসদ ভবনের সামনেও ছিল উপচেপড়া ভিড়। চন্দ্রিমা উদ্যানে আসা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘এই উৎসব সবাই মিলে উদযাপন করার মধ্যে ভিন্ন রকমের আনন্দ আছে। বৈশাখের প্রথম সকালে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রা হয়। এখানেও অনেক মানুষ, সবাই আনন্দ করেন।