জিনপিংয়ের পুনর্নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা

শি জিনপিং (ফাইল ছবি)

চীনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শি জিনপিং পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তিনি দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় থাকায় তার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে দেশের উন্নয়নযাত্রাকে আরও বেগবান করার বাংলাদেশের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

গত মার্চে প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হন শি জিনপিং। এর আগে চীনের সংসদ সংবিধান পরিবর্তন করে। এর মাধ্যমে জিনপিং আগামীতে তৃতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে পারবেন, যা এর আগে সম্ভব ছিল না।

কূটনীতিক ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জিনপিংয়ের পুনর্নির্বাচনের ফলে চীনের নীতিতে আপতত বড় কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। এটিকে ইতিবাচক মনে করে বাংলাদেশকে তার অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও বেশি গভীর করা উচিত।

চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুনশি ফায়েজ আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শি জিনপিং দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি লাভের জন্য আমাদের উচিত হবে তার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা। আমি মনে করি না বাড়তি উদ্যোগ না থাকলে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক খারাপের দিকে যাবে। তবে আমাদের নিজেদের স্বার্থে সরকারে উচিত হবে এ বিষয়ে জোর দেওয়া।’

তিনি আরও বলেন, ‘চীনের প্রেসিডেন্ট ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সফর করেছেন। এখন আমাদের তরফ থেকে ফিরতি সফর হওয়া দরকার।’ এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গতিশীল ও মজবুত করে বলে তিনি অভিমত দেন।

চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক অংশীদার। গত বছর দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল দেড় হাজার কোটি ডলারের বেশি। শি জিনপিংয়ের মেগা ভিশন, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে বাংলাদেশও অংশীদার। পদ্মা সেতু ও ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন রাস্তা চীনের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।

শি জিনপিং পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে অভিনন্দন জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, জিনপিংয়ের নেতৃত্বে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর ও গতিশীল হবে।

পলিসি অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘এখন চীনের বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতা নীতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা অনেক কম। আমাদের দুই দেশের মধ্যে বিরোধপূর্ণ কোনও বিষয় নেই। এটি আমাদের জন্য একটি বড় সুযোগ সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত করার।’

অনেক চ্যালেঞ্জ আছে উল্লেখ করে ভারসাম্যপূর্ণ নীতি গ্রহণ করে বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে চীন ও ভারত বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। ভারতের প্রস্তাবটি চীনের থেকে খারাপ ছিল। তারা লবিং করলো এবং আমরা অপ্রয়োজনীয় কিছু নাটক দেখলাম। দেশে এখন ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বড় বড় বিনিয়োগ আসবে এবং এর সঙ্গে আসবে রাজনৈতিক চাপ।’ তিনি বলেন, ‘এই ধরনের রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে জাতীয় স্বার্থকে বিবেচনায় নিয়ে একটি নীতি গ্রহণ করে সবার সঙ্গে দরকষাকষি করা।’

এদিকে, গত সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকায় চীন দূতাবাসের অর্থনৈতিক কাউন্সিলর লি গোয়াংজন বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা বদলের জন্য একটি নির্বিঘ্ন নির্বাচন আশা করি। অনেক চীনা কোম্পানি এখানে কাজ করে।’