বুধবার (২৫ এপ্রিল) বিকালে এই কমিটির বৈঠকে নির্বাচনি প্রচারণায় এমপিদের সুযোগ দেওয়া এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কিন্তু কোনও সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়েছে। আগামী সপ্তাহে আবারও এ কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
জানা গেছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আচরণ বিধিমালা সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়। এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার জরুরি বৈঠকে বসেছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু ওই বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা বিভক্ত হয়ে যাওয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিষয়টি কমিশনের আইন ও বিধিমালা সংস্কার কমিটিতে পাঠিয়ে দেয়। এরপর ওই কমিটি আজ (বুধবার) বৈঠকে বসে।
বুধবারের বৈঠকের বিষয়ে এক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বৈঠকে সিটি করপোরেশন বিধিমালা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এতে নির্বাচনি প্রচারণায় এমপিদের সুযোগ দেওয়ার দাবির বিষয়টি উত্থাপিত হয়। তবে সরকারি দলের এমন প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সরাসরি কেউ বক্তব্য তুলে ধরেননি। এমপিরা প্রচারণায় অংশগ্রহণ করলে নির্বাচনে কী কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির নেতারা প্রচারে অংশ নিতে পারেন। তাদের ক্ষেত্রে বাধা নেই। কিন্তু সরকার দলীয় এমপিরা প্রচারে অংশ নিতে পারছেন না। এমনকি স্থানীয় এমপিও প্রচারণায় অংশ নিতে পারছেন না। এতে বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া, এমপিরা সরকারি সুবিধাভোগীর তালিকায় পড়েন না। এ বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে আরেকজন বলেছেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আচরণ বিধিমালায় নির্বাচনি প্রচারে এমপিদের সুযোগ দেওয়া হলে অন্যান্য নির্বাচন, যেমন— উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদেও তাদের প্রচারের সুযোগ দিতে হবে। ওই সব নির্বাচনের আচরণ বিধিমালাতেও সংশোধনী আনার প্রয়োজন দেখা দেবে।
বৈঠকে আচরণ বিধিমালায় ফেসবুক, টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অন্তর্ভুক্ত করাসহ কয়েকটি বিষয়ের সংশোধনী নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা কোনও বিষয়ে একমত হতে না পারায় সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়েছে।
বৈঠক শেষে আইন ও বিধিমালা সংস্কার কমিটির সভাপতি নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেন, ‘বৈঠকে কিছু বিষয়ে আলোচনা করেছি। কিন্তু কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। আবারও বৈঠক করবো।’