৩০ এপ্রিল সোমবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এমন মন্তব্য করেন।
অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, ‘আমি বহুবার বিসিএস পরীক্ষার ভাইভাতে কাজ করেছি। সেখানে আমি দেখেছি অনেক বৈষম্য করা হয়। দলীয়ভাবে নম্বর বণ্টন করা হয়। যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, তখন সে সরকারের দলীয় লোকেরা ভাইভার জন্য যে ২০০ নম্বর বরাদ্দ থাকে, তা সহজে পেয়ে যায়। কথাগুলো আমি অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। তাই আমি মনে করি, ভাইভাতে যে ২০০ নম্বর রাখা হয়েছে,তা কমিয়ে ৫০ নম্বর করা উচিত।
আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক নূরুল হক নূর। আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাবি’র গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. ফাহমিদুল হক বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা শিক্ষক-শিক্ষার্থী কাছাকাছি হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। যার কারণে আমরা একই প্ল্যাটফর্মে এসে কথা বলতে পারছি। '
তিনি বলেন,'আমাদের কিছু শিক্ষক প্রশাসনে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু তারা আজকে অন্ধ হয়ে গেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে যেভাবে নির্যাতন চালানো হয় সেদিকে প্রশাসনের কোনও খেয়াল নেই। আন্দোলনকারীরা কি সবাই ছাত্রশিবির! লাখ লাখ শিক্ষার্থী এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছে, সেটা কি আপনারা দেখেননি? আপনারা এই গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন, সবকিছুতেই ষড়যন্ত্র দেখবেন না। দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করুন। '
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ঢাবি’র ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সৌরভ সিকদার, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রুবায়েত ফেরদৌস, সহযোগী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক খান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক রাশিদুল হাসান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মো. তানজিম উদ্দিন খান, সহযোগী অধ্যাপক সায়মা আহমেদ প্রমুখ।
আন্দোলনকারীদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান আলোচনা সভায় কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘সেদিন (৮ এপ্রিল) যারা ক্যাম্পাসে অস্ত্র হাতে মহড়া করেছিল, আমাদের ভাই আশিকুরের বুকে গুলি চালিয়েছিল, তাদের প্রত্যেককে চিহ্নিত করে শাস্তি দিতে হবে। সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিরাপত্তার জন্য একটি স্বায়ত্তশাসিত বিশেষ নিরাপত্তা সেল গঠন করতে হবে। ক্যাম্পাসের প্রবেশপথগুলোতে সিসি ক্যামেরা ও নিরাপত্তা চৌকি বসাতে হবে। বিশেষ করে রাত ১০টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। নিরাপত্তা চৌকির মাধ্যমে দেখতে হবে কোনও বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে চায় কি-না। ক্যাম্পাসের প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে পড়াশোনার পাশাপাশি বাক স্বাধীনতা দিতে হবে। হলগুলোতে তাদের যে বাকরুদ্ধ করে রাখা হয়, তাদের অধিকারের বিষয়ে কথা বলতে দেওয়া হয় না, এ বিষয়ে হল প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি বলেন, আজকের পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব ন্যায্য আন্দোলন হয়, সেখানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কোনও বাধা দেওয়া যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি কাজ, প্রত্যেকটি বিষয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অন্য কোনও গোষ্ঠী বা পক্ষের হাতে নিয়ন্ত্রণ যাওয়া যাবে না।