বৃহস্পতিবার ( ৩ মে) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর রুনি মিলনায়তনে গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীদের হলফনামার বিশ্লেষণ তুলে ধরে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।
সুজন জানায়, গাজীপুরে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের আয় ২০১৩ সালের তুলনায় এবার বেড়েছে প্রায় কোটি টাকা, শতকরা হিসেবে যা ৮২.৪৫ শতাংশ। ২০১৩ সালের নির্বাচনে হলফনামায় উল্লেখিত তার মোট আয় ছিল ১ কোটি ১৮ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা। ২০১৮ সালে আয় দেখানো হয়েছে ২ কোটি ১৬ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। ২০১৩ সালের তুলনায় এ বছর আয় বেড়েছে ৯৭ লাখ ৭৮ হাজার ৫০০ টাকা।
অন্যদিকে খুলনার আওয়ামী লীগ প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেকের আয় পাঁচ বছরে কমেছে ৯০ শতাংশ। ২০১৩ সালের সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে খালেকের আয় উল্লেখ করা ছিল ৫ কোটি ৩২ লাখ ৬৭ হাজার ২৭৭। ২০১৮ সালে হলফনামায় উল্লেখিত আয়ের পরিমাণ ৫২ লাখ ৭৬ হাজার ১৩৪ টাকা।
বিশ্লেষণে আরও উল্লেখ করা হয়, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাতজন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে দুজনের আয় বছরে ৫ লাখ টাকার নিচে, তিনজনের আয় বছরে ৫ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকার মধ্যে এবং একজনের আয় ২ কোটি টাকার বেশি। গাজীপুরের মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে বছরে সবচেয়ে বেশি টাকা আয় করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। তারপরেই রয়েছেন বিএনপি প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার, যার বাৎসরিক আয় ১৭ লাখ ৮৯ হাজার ৫২৪ টাকা।
অন্যদিকে খুলনায় পাঁচজন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে দুইজনের আয় বছরে ৫ লাখ টাকার নিচে, একজনের আয় ৫ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকার মধ্যে এবং একজনের আয় ৫০ লাখ টাকার ওপরে। খুলনায় মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক। তারপরেই রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু যার আয় ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
সুষ্ঠু ও কালো টাকামুক্ত নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশনকে সঠিক তথ্যের নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে লেখক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘এত কম সময়ে এত বেশি প্রার্থীর তথ্যের সত্যতা যাচাই-বাছাই করা দুরূহ ব্যাপার। রাজনৈতিক ক্ষমতার বলে অনেকেই প্রভাব খাটিয়ে নির্বাচনে সুবিধা নিতে চায় এবং নির্বাচন কেন্দ্রিক হানাহানি বেড়ে যায়। ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে চায়। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে এবং কোনও ঝামেলা হবে না। তাহলে জনগণ নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন।’
সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘সুজনের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মোট প্রার্থীদের মধ্যে অশিক্ষিত, যারা মাধ্যমিক পর্যন্তও পড়ালেখা করে নাই, তারা কেন জনপ্রতিনিধি হতে চায়? তাদের কিন্তু আর্থিক সচ্ছলতাও নেই। সৎ যোগ্য মানুষরা কেন জনপ্রতিনিধিত্ব করতে চায় না? এটা আমাদের দেশ ও সমাজের জন্য ভয়াবহ ব্যাপার।’
সুজনের সেক্রেটারি ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনও দলীয় ভিত্তিতে করার ফলে দিনে দিনে তৃণমূল পর্যন্ত নির্বাচন কেন্দ্রিক সংঘাত সংঘর্ষ আরও বেড়ে যাবে এবং নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হবে। সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে ইসিকে আন্তরিক হতে হবে এবং ইসিকে সরকারের সহযোগিতা করতে হবে। তা না হলে ইসি একাই কখনও নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করতে পারবে না।