গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে আদালতের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার (৮ মে) সাংবাদিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
সচিব জানান, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে উচ্চ আদালত যে আদেশ দিয়েছেন, কমিশন সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এজন্য একজন আইন বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) বিকালে কমিশনের বিজ্ঞ আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলবো।
ইসি সচিব বলেন, ‘এই নির্বাচন অনুষ্ঠানে আমরা সব প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একাধিকবার চিঠি চালাচালি করেছি। তাদের সঙ্গে কথা বলে কোনও বাধা নেই নিশ্চিত হয়েই তফসিল ঘোষণা করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে, নির্বাচনটা স্থগিত হলো। তবে নির্বাচনটা করা যায় কিনা, এজন্য আমরা আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এর আগে সচিব হেলালুদ্দীনের সভাপতিত্বে ‘গণমাধ্যমে নির্বাচনি সংবাদ ও ফলাফল সংগ্রহ ও প্রচার বিষয়ক নীতিমালা প্রণয়ন’ সংক্রান্ত মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ইসির সচিব বলেন, ‘যে ছয়টি মৌজার বিষয়ে স্থগিতাদেশ এসেছে তার বিষয়ে গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে আমরা নিশ্চিত হয়েছিলাম। তারা হাইকোর্টের নির্দেশনা মেনেই প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল। ’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা স্থগিতাদেশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাগজপত্র সংগ্রহ করেছি। তবে এখনও পর্যন্ত আদালতের লিখিত আদেশ পাইনি। আমরা আইনজীবীর কাছ থেকে যে সার্টিফায়েড কপি পেয়েছি, তার আলোকেই আপিল করার নির্দেশনা দিয়েছি।’
সংবিধানের ১২৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার পর কমিশনকে অবহিত না করে আদালত কোনও নির্বাচনের বিষয়ে কোনও নির্দেশ দিতে পারবে না। গাজীপুরের ক্ষেত্রে তা প্রতিপালন হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, ‘আমরা আদালত থেকে কোনও নোটিশ পাইনি। পর্যাপ্ত সময়ও দেওয়া হয়নি। তবে কোর্টের অবারিত ক্ষমতা রয়েছে। তারা আদেশ দিয়েছেন। তাদের আদেশের প্রতি ইসি সম্মান না দিয়ে পারে না।’