তিন জেলায় বজ্রাঘাতে আট জনের মৃত্যু

 

বজ্রাঘাত

তিন জেলায় মঙ্গলাবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বজ্রাঘাতে আট জনের মৃত্যু হয়েছে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর

বরিশাল: বরিশালের আগৈলঝাড়ায় বজ্রাঘাতে খোকন প্রমাণিক (৩০) নামে এক ধান কাটা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের কাজিরগ্রামের সাজুরিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত খোকন প্রমাণিক কুষ্টিয়া জেলার খোকসা থানার বড়ইচাড়া গ্রামের  আফতাব প্রমাণিকের ছেলে।

গৌরনদী থানার ওসি মুনিরুল ইসলাম মুনির জানান, খোকন প্রমাণিকসহ কয়েকজন শ্রমিক মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে জলিল সরদারের ক্ষেতে ধান  কাটতে যায়। এসময় বজ্রাঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন।পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খোকনকে উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ব্যাপারে থানায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জের বানিয়াচঙ্গে ও সদরে বজ্রাঘাতে ২ যুবক নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও চার জন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

নিহতরা হলো বানিয়াচং উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের মর্দনপুর গ্রামের মোতাহির মিয়ার ছেলে জুবায়ের মিয়া (২৪)। ও চুনারুঘাট উপজেলার,জোয়ালভাঙ্গা গ্রামের মনাই মুন্ডার ছেলে সুজন মন্ডা (৩০)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় মুরাদপুর হাওরে মাছ ধরে বাড়ি ফেরার পথে বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হলে বজ্রাঘাতে তিনি আহত হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক দেবাশ্বীস রায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন।  

বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুন খন্দকার যুবকের নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতের বাড়িতে গিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।

অপরদিকে মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলার নোয়াখাল হাওরে ধান কাটতে গিয়ে ৫ জন বজ্রপাতে আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে সুজন মুন্ডা মারা যান। 

হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে জরুরী বিভাগের চিকিৎসক দেবাশ্বীস ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের বজ্রাঘাতের পৃথক ঘটনায় বিভিন্ন উপজেলায় পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একটি শিশু, দুই নারী ও দুই কৃষক রয়েছেন। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার (৮ মে) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত হাওরে ধান কাটতে গিয়ে, মাছ ধরার সময় ও আঙিনায় ধান ওড়ানোর সময় বজ্রাঘাতে তারা মারা যান।

নিহতরা হলেন- বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শাহানা বানু (৫৬), সুরমা বেগম (২২), তাহিরপুর উপজেলার নুর হোসেন (৩৮) , দোয়ারবাজার উপজেলার ফেরদৌস আলম (১৩), দিরাইয়ের  মুসলিম উদ্দিন (৭৫)। এদিকে বজ্রাঘাতে জামালগঞ্জ উপজেলায় আহত হয়েছেন আরও ৩ জন।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের পুরানগাঁও গ্রামে বাড়ির পাশে ধান শুকানোর সময় বজ্রাঘাতে মারা যান শাহানা বানু। এছাড়া তাহিরপুর উপজেলার ভাটি তাহিরপুর গ্রামে শনির হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রাঘাতে কৃষক নুর হোসেনের মৃত্যু হয়। দোয়ারাবাজার উপজেলার মান্নারগাও ইউনিয়নের ডুম্ভনগাও গ্রামের মখলিস আলীর ছেলে ফেরদৌস আলম সকালে মাছ ধরার সময় বজ্রাঘাতে মারা যায়।

গত এক দেড় মাসে বজ্রাঘাতে সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।