শুনানিতে বীমা কোম্পানিগুলো গ্রাহকদের মেয়াদ পূর্ণ হওয়া বীমার দাবি সঠিকভাবে পরিশোধ করেছে কিনা, তা যাচাই করা হবে। সে জন্য বীমা প্রতিষ্ঠান ও ভুক্তভোগী গ্রাহকদের শুনানিতে ডাকা হবে।
জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি ড. আবদুর রাজ্জাক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বীমা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কমিটির কাছে এসেছে। ম্যাচিওর হওয়ার পরও অনেকে টাকা পাচ্ছেন না। উল্টো হয়রানির শিকার হন। সেজন্য কমিটি বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। এবং গণশুনানি অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
জানা গেছে, বেশ কয়েকজন গ্রাহকের অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে হোমল্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জুলহাসকে বৃহস্পতিবারের বৈঠকে ডাকা হয়। তাকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের বীমার টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। অন্য কোনও বীমা কোম্পানির বিরুদ্ধে কমিটির কাছে এ ধরনের অভিযাগ এলে তাদেরকেও ডাকা হবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়।
বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা যায়, দেশে বর্তমানে জীবন বীমা সম্পর্কিত ৩২টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এরমধ্যে ১৪টি প্রতিষ্ঠান নতুন এবং এদের পলিসির মেয়াদ এখনও পূর্ণ হয়নি। বাকি ১৮টি প্রতিষ্ঠানের বীমার টাকা ৮৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ পরিশোধ করা হয়েছে বলে কোম্পানিগুলো দাবি করেছে। পপুলার ও রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পলিসির টাকা শতভাগ পরিশোধ করেছে বলে কার্যপত্রে দাবি করা হয়। দাবির টাকা সবচেয়ে কম ৫৯ দশমিক ১৮ শতাংশ পরিশোধের করেছে পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্স। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রগতি লাইফ ৯৯ দশমিক ৭৯, ডেল্টা লাইফ ৯৯ দশমিক ৬০, হোমল্যান্ড লাইফ ৯৭ দশমিক ৮৫, ন্যাশনাল লাইফ ৯৭ দশমিক ৪৪, মেঘনা লাইফ ৯৭ দশমিক ১০, মেটলাইফ ৯৩ দশমিক ১১,প্রগ্রেসিভ লাইফ ৮৭ দশমিক ০৫, সানলাইফ ৮৬ দশমিক ৮৫, সন্ধানী লাইফ ৮৬ দশমিক ৬৭, বায়রা লাইফ ৮৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ, সানফ্লাওয়ার লাইফ ৮১ দশমিক ১৬, প্রাইম ইসলামী লাইফ ৭৬ দশমিক ৮৫, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও গোল্ডেন লাইফ ৭৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং জীবন বীমা করপোরেশন ৬৮ দশমিক ৪২ শতাংশ দাবির টাকা পরিশোধ করেছে।
কমিটি সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য নাজমুল হাসান, মোস্তাফিজুর রহমান, আব্দুল ওয়াদুদ, ফরহাদ হোসেন ও আখতার জাহান অংশ নেন।