বিদ্যুৎ জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সম্প্রতি জ্বালানি বিভাগে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বলেন, এলপিজি ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থাগুলো ঠিকভাবে অনুসরন করছেন না।কিন্তু তাদেরকে গ্রাহকের নিরাপত্তায় যথেষ্ঠ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
ওই বৈঠকে জানানো হয়, সম্প্রতি সিএনজির সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে।নিহতও হয়েছেন অনেকেই। বৈঠকে এলপিজি বিপণন কোম্পানির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।তাদের নিরাপত্তার ইস্যুটি অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এলপিজির নিরাপত্তা নিয়ে জ্বালানি বিভাগ যে প্রতিবেদন দিয়েছে তাতে বলা হচ্ছে, এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির ক্ষেত্রে বিস্ফোরক পরিদফতর কর্তৃক অনুমোদিত কোড ও স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী সিলিনন্ডার তৈরি বা কিনতে হবে।পাশাপাশি বিস্ফোরক আইনের সিলিন্ডারের যাবতীয় তথ্যাদী সিলিন্ডারের কলারে সংরক্ষণ করতে হবে।এছাড়া অন্যের সিলিন্ডারে গ্যাস ভর্তি করা (ক্রয় ফিলিং করা) এবং গ্যাস ডিসেক্টিং দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে এবং তা যথাযথভাবে কার্যকর করতে হবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কোম্পানিগুলোকে নিজ নিজ সিলিন্ডারের জন্য দায়বদ্ধ থাকতে হবে। ট্রাকে সিলিন্ডার পরিবহনের সময় সর্বোচ্চ দুই সারিতে সিলিন্ডার স্ট্যাক করতে হবে।
এর বাইরে মন্ত্রণালয় থেকে এলপিজি প্ল্যান্টের বিষয়েও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাতে বলা হয়, এলপিজি স্থাপনার বিভিন্ন ফায়ার হাইড্রেন্ট, মনিটর, হোস রিল এবং বিভিন্ন ক্ষমতার ফায়ার এস্টিংগুইসার থাকতে হবে।এলপিজি স্টোরেজ ট্যাংকগুলোর তাপমাত্রা ও চাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে বা অগ্নিকাণ্ডের সময়ে ট্যাংকগুলো ঠাণ্ডা রাখার জন্য প্রয়োজনীয় স্প্রিনকলার সিস্টেম থাকতে হবে।এলপিজি প্ল্যান্ট এলাকাতে ফায়ার অ্যান্ড গ্যাস ডিটেকশন সিস্টেমের ব্যবস্থা থাকতে হবে। ফায়ার ফাইটিংয়ের জন্য প্রশিক্ষিত জনবল থাকতে হবে এবং ফায়ার ফাইটিংয়ের নিয়োজিত জনবলকে প্রতিনিয়ত প্রশিক্ষণ ও ড্রিল করতে হবে।
দেশে এখন ১৫টি কোম্পানি এলপিজি বিপণন করছে। এসব কোম্পানির কোনও কোনওটি দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তুলতে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। তবে কোনও কোনও কোম্পানি এখনও এলপিজির নিরাপত্তা ইস্যুতে গ্রাহককে সচেতন করে তোলার কাজটি করছেন না বলে জ্বালানি বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান।
দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের স্বল্পতায় এলপিজির ব্যবহার ও বিপণন বাড়ছে। ক্রমান্বয়ে রান্না ঘরের বাইরেও এলপিজি গাড়িতে অটোগ্যাস হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। জ্বালানির খরচ বিবেচনায় পেট্রোল এবং অকটেনের তুলনায় কম হওয়ায় অনেকে অটোগ্যাস ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে। খোদ রাজধানীতেও অটোগ্যাস বিপণন শুরু করেছে বেসরকারি বিপণনকারীরা। তবে সবার আগে এলপিজির নিরাপত্তা ইস্যুকে প্রধান্য দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
এ প্রসঙ্গে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বিডি রহমতউল্লাহ বলেন, ‘আমাদের দেশে নিরাপত্তা ইস্যুকে তেমন প্রাধান্য দেওয়া হয় না। সরকারের উচিত নিরাপত্তার সঠিক নির্দেশনা মানতে বাধ্য করা। নইলে এলপিজির দুর্ঘটনার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।’