সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মীদের প্রতি সহিংসতা বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

সংবাদ সম্মেলনে অভিবাসী শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনের প্রতিনিধিরা

ভাগ্য বদলে একটু সুখের আশায় যে নারীরা বিদেশে যাচ্ছেন সেখানে তাদের কপালে জুটছে ভয়াবহ শারীরিক, মানসিক এবং যৌন নির্যাতনের মতো জঘন্য ঘটনা। প্রতিদিনই সৌদি আরব থেকে নির্যাতনের শিকার নারীরা দেশে ফিরে আসছেন এবং এই সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। দেশে ফিরে এসব নারী নির্যাতনের ভয়াবহ বর্ণনা দিচ্ছেন। সরকারের পক্ষ থেকে প্রায়ই বলা হয় নারী কর্মীদের নির্যাতনের ঘটনা খুব কম। কিন্তু একটা মেয়েও যদি নির্যাতনের শিকার হয় তার জন্যও ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। কিন্তু সেই ধরনের ব্যবস্থা চোখে না পড়ায় এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছে অভিবাসী শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা ১১টি সংগঠন।
বৃহস্পতিবার (৩১ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই আহ্বান জানায় বাংলাদেশ সিভিল সোসাইটি ফর মাইগ্রেশন (বিসিএসএম)। এতে বক্তারা বলেন, ফেরত আসা নারীরা জানিয়েছেন, তাদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে আরও ভয়াবহ মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটে। গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া, মাথায় গরম পানি ঢেলে দেওয়া, চুল টেনে ছিঁড়ে ফেলা, গরম আয়রন দিয়ে সেক দেওয়া, খুন্তি গরম করে শরীর পুড়িয়ে দেওয়াসহ নানা রকম ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হন তারা। যার ফলে অনেকে মানসিক ভারসম্য হারিয়ে ফেলছেন। আবার নির্যাতিতদের অনেককেই পরিবার গ্রহণ করতে চাচ্ছে না।

বক্তারা আরও বলেন, সমস্যা সমাধানে আমরা কোনোভাবেই মেয়েদের বিদেশ পাঠানোর বিপক্ষে বলছি না। কিন্তু তারা যাতে গৃহকর্মী হয়ে বিদেশে গিয়ে নির্যাতনের শিকার না হয় সেদিকে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এজন্য সবার আগে সৌদি আরবে যারা নির্যাতন করেন তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত। এদের বিচারের মুখোমুখি করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। এছাড়া দূতাবাসের পক্ষ থেকে নজরদারির ব্যবস্থাও করতে হবে। প্রয়োজনে দূতাবাসগুলোতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিয়ে দ্রুত এর সমাধান করতে হবে। আর এসব সম্যার সমাধান করতে একমাত্র প্রধানমন্ত্রীই পারেন। তাই আমরা তার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়, যার মধ্যে রয়েছে– সৌদি আরবসহ বিদেশে কাজ করতে যাওয়া প্রতিটি নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত, ফেরত আসা গৃহশ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রাপ্য মজুরি নিশ্চিত, গৃহকর্তা বা গন্তব্য দেশের এজেন্সির গর্ভবতী নারী শ্রমিক ও তার শিশুর সম্পূর্ণ দায়িত্ব বহন, দোষী গৃহকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দূতাবাসের কার্যকর ভূমিকা পালন, এবং প্রাক বহির্গমন প্রশিক্ষণ আরও যুগোপযোগী করা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) পরিচালক মেরিনা সুলতানা, ওয়ারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুল হক, ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান, বাংলাদেশ অভিবাসী মহিলা শ্রমিক অ্যাসোশিয়েশনের (বোমসা) পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালক রিয়া রায়সহ অন্যান্য সংগঠনের প্রতিনিধিরা।