পাটের পলিথিন প্রকল্পে অনুদান দেওয়া হবে: পরিবেশমন্ত্রী

গোল টেবিল আলোচনায় বক্তব্য রাখছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদপাট থেকে পলিথিন তৈরির উদ্যোগকে আশাব্যঞ্জক বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘এই প্রকল্পকে প্রমোট করতে হবে। পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে এই প্রকল্পে অনুদান দেওয়া হবে। পাটের পণ্যকে সমৃদ্ধ করতে হবে।’ রবিবার (৩ জুন) বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে পরিবেশ অধিদফতর ও দৈনিক সমকালের উদ্যোগে আয়োজিত যৌথ গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

খাদ্য চেইনে প্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে জরুরিভাবে ব্যবস্থা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ‘আরেকটা জিনিস এখানে আসার পর জানতে দেখলাম, আমাদের খাদ্য চেইনে প্লাস্টিক ঢুকে গেছে। এটা নিয়ে পরিবেশ অধিদফতরকে দ্রুত কাজ করতে হবে। আমার মনে হয় এজন্য কোনও আইনের প্রয়োজন নেই। আমাদের যেই বিধিগুলা আছে, সেগুলো দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।’

যেই প্লাস্টিক পুনঃব্যবহার করা যাবে, তা ব্যবহারের প্রতি গুরুত্বারোপ করে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে রি-ইউজ কিংবা রিসাইকেলের কথা বলা হয়েছে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে আনার জন্য। তার মানে এই না, এসব ব্যবহারের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। প্লাস্টিক এখন সব জায়গায় ছড়িয়ে গেছে। প্যাকেজিং থেকে শুরু বাড়ির দরজায় পর্যন্ত প্লাস্টিকের ব্যবহার। তাই আমাদের নিজেদের সচেতন হতে হবে আগে। আমি সেই প্লাস্টিক ব্যবহার করবো না, যেই প্লাস্টি রি-ইউজ কিংবা রিসাইকেল করা যায় না।’

প্লাস্টিক পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে জলাবদ্ধতায় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আগে একবার বুড়িগঙ্গা খননের সময় শুনেছিলাম, যা উঠে এসেছে তার সবই প্লাস্টিক ব্যাগ। আমাদের প্রতিমন্ত্রী নিজেই অনেকবার প্লাস্টিকের ব্যাগের বিরুদ্ধে অভিযানে গিয়েছিলেন। এই পলিথিনের ব্যাগ তৈরির পদ্ধতি এতটাই ভ্রাম্যমাণ যে এদের ধরা খুব মুশকিল। ছোট ঘরের মধ্যে মেশিন বসিয়ে ইচ্ছামতো প্লাস্টিকের ব্যাগ তৈরি করছে। আবার সামগ্রিকভাবে যে উৎপাদন বন্ধ করে দেবো, তাও সম্ভব নয়। ধাপা ধাপে আমাদের এগুতে হবে। অন্যান্য দেশে পলিথিনের যে বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করে তা দেশে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।’

গোলটেবিল আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. এস এম মঞ্জুরুল হান্নান খান, বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মোবারক আহমেদ খান, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত, বেলা’র প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, স্বপ্ন ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের বিজনেস ডিরেক্টর সোহেল তানভীর খানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।