আইসিসি’র অনুরোধে সাড়া দেওয়ার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ‘দায়বদ্ধতা: আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং রোহিঙ্গা সমস্যা’ বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন অস্ট্রেলিয়ার বিশিষ্ট পার্লামেন্ট সদস্য ফিলিপ রুডক

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারকে বিচারের মুখোমুখি করতে আগ্রহ দেখিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। এ বিষয়ে সংস্থাটি বাংলাদেশের কাছে যেসব বিষয়ে মতামত চেয়েছে তা সরবরাহের পক্ষে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

গত ৭ মে আইসিসির প্রি-ট্রায়াল চেম্বার রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারকে বিচারের মুখোমুখি করার ব্যাপারে মতামত চেয়ে বাংলাদেশের কাছে এ সংক্রান্ত  একটি চিঠি পাঠায়। ওই চিঠিতে আগামী ১১ জুনের মধ্যে প্রকাশ্যে বা গোপনীয়ভাবে মতামত জানাতে বাংলাদেশকে অনুরোধ করা হয়।

চিঠিতে বাংলাদেশের কাছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তিনটি বিষয়ে মতামত চেয়েছে। প্রথমটি হচ্ছে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পরে রোহিঙ্গাদের অবস্থা কী, দ্বিতীয়টি হচ্ছে রোহিঙ্গা ইস্যুতে শুনানির জন্য আদালতের কোন অধিকার আছে এবং তৃতীয় বিষয় হচ্ছে এ সংক্রান্ত অন্য যে কোনও প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ।

এই চিঠি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে আজ সোমবার (৪ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ‘দায়বদ্ধতা: আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং রোহিঙ্গা সমস্যা’ বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এই সেমিনারে

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) অনুরোধে বাংলাদেশকে সাড়া দেওয়ার আহবান জানিয়েছে বিশেষজ্ঞ ও সুশীল সমাজ।

সেমিনারে অংশ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টের বর্ষীয়ান সদস্য ফিলিপ এম রুডক বলেন, ‘দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের জন্য আমাদের প্রমাণ দরকার।’

তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে তাদের কাজের ধরন পাল্টানোর জন্য চাপ দেওয়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি দায়িত্ব।’

মিয়ানমারের ওপর অবরোধ আরোপ করা হলে তাদের ব্যবহারগত একটি বড় পরিবর্তন আসবে বলে তিনি মনে করেন। এ বিষয়ে উত্তর কোরিয়া ও ইরানের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এসব দেশের ক্ষেত্রে অবরোধ আরোপ করে ভালো ফল পাওয়া গেছে।

বিচারপতি সৈয়দ রিফাত আহমেদ বলেন, আইসিসির বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে বাংলাদেশকে এ বিষয়ে তাদের মতামত জানানো।

তিনি বলেন, অবশ্য প্রসিকিউটর নিজে থেকেও এ উদ্যোগ নিতে পারেন।

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যে নির্যাতন চালানো হয়েছে তার প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং এগুলো আইসিসিতে ব্যবহার করা হবে বলে তিনি জানান।

সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ এর পরিচালক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তার প্রচুর প্রমাণ আছে। প্রথম দিন থেকে গোটা প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে রেকর্ড করা হয়েছে এবং এবারে মিয়ানমার এ থেকে পরিত্রাণ পাবে না।

অবরোধের বিষয়ে তিনি বলেন, চীন, রাশিয়া ও ভারতের মনোভাব পরিবর্তন হলে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহজ হবে।

ভারতের ভূমিকা বিষয়ে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে তারা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ পদক্ষেপ নিয়েছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের অবস্থান বাংলাদেশকে কখনোই সন্তুষ্ট করেনি আবার মিয়ানমার শেষ পর্যন্ত চীনের কাছে ফেরত গেছে।

গত ২৫ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন শুরু হলে রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। মিয়ানমার সামরিক বাহিনী জাতিগত নিধন চালাচ্ছে বলে জাতিসংঘ থেকে এর আগে একাধিকবার বলা হয়েছে।