রোহিঙ্গাদের কারণে সামাজিক-অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে: আবুল মকসুদ

‘বাংলাদেশে রোহিঙ্গা বসতি: কক্সবাজারের পরিবেশ সংকট’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা

মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের জায়গা দেওয়া হলেও এখন আর তাদের হাতে হওয়া পরিবেশের ক্ষতি মেনে নেওয়া যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ। তিনি বলেন, ‘দ্রুত পরিবেশ বাঁচাতে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। রোহিঙ্গাদের কারণে শুধু পরিবেশ নয়, সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ক্ষতিও হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে একটি সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।’ মঙ্গলবার (৫ জুন) রাজধানীর পুরানা পল্টনের মুক্তি ভবনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও গ্রিন ভয়েস-এর যৌথ উদ্যোগে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে ‘বাংলাদেশে রোহিঙ্গা বসতি: কক্সবাজারের পরিবেশ সংকট’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাপার কক্সবাজার শাখার সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী। বাপার সহ-সভাপতি সৈয়দ আবুল মকসুদের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আব্দুল মতিন, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. আহম্মেদ কামরুজ্জামান মজুমদার।

মূল প্রবন্ধে ফজলুল কাদের বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজারে পরিবেশ প্রতিবেশ সংকট এখন চরমে। ২০১৭ মাসের ২৮ আগস্ট থেকে এই বছরের ৩০ মে পর্যন্ত রোহিঙ্গা বসতির জন্য কক্সবাজারের প্রায় সাড়ে চার হাজার একর সংরক্ষিত বন উজাড় হয়ে গেছে। এর আর্থিক মূল্য প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। এভাবে চলতে থাকলে পর্যটন নগরী কক্সবাজার বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। এজন্য দ্রুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন জরুরি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গাদের বসতি গড়ে তুলতে গত ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত বন বিভাগের উখিয়া, টেকনাফ ও হোয়াইকং রেঞ্জের এক হাজার ৬৪৫ একর সামাজি বনাঞ্চলে গাছ কেটে ফেলেছে। ধ্বংস করা এই বনের আর্থিক মূল্য প্রায় ১৫১ কোটি টাকা। এই তিন রেঞ্জে বর্তমানে ৫ লাখ ২২ হাজার রোহিঙ্গা বসবাস করছে। ঝুঁকির মধ্যে আছে ওই এলাকয এক হাজার ১৫৬ প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী। এরমধ্যে হাতি ও দুই প্রজাতির বিড়াল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে। রোহিঙ্গাদের কারণে ওই এলাকার পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। সুপেয় পানি কমে যাচ্ছে। লবণাক্ততা বাড়ছে।’ আগামী পাঁচ বছর এই পানির স্তর আরও নিচে নামবে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আব্দুল মতিন বলেন, ‘এভাবে চললে কক্সবাজার বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। মরুকরণ শুরু হবে। এ অব্স্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন জরুরি। পরিবেশ রক্ষায় সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বাস্তবসম্মত কমসূচি গ্রহণ করতে হবে। ভূ-গর্ভস্থ পানির বদলে বিকল্প পানির ব্যবস্থা করতে হবে। পাহাড়, বন, খাল কঠোরভাবে সংরক্ষণের পদেক্ষেপ নিতে হবে। পরিবেশ আইন বাস্তবায়ন করতে হবে।’

স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. আহম্মেদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে দ্রুত সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। এজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদের কড়া নজরদারি, ত্রাণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ ও শিক্ষা, চিকিৎসা নিশ্চিত করা, ক্ষতিগ্রস্ত বনাঞ্চলে আবার বনায়ন করা, বনের বাইরে রোহিঙ্গাদের অন্য জায়গায় আশ্রয় দেওয়ার ব্যবস্থা করা দরকার।’ তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও সংগঠনের সহায়তায় রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার ফেরত পাঠানো বা তৃতীয় কোনও দেশে পাঠানোর চেষ্টার করার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয়ভাবে চাপ সৃষ্টি করতে হবে সরকারকে।’