সোমবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের ইসরাফিল আলম ও পিনু খানের পৃথক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী একথা বলেন।
ইয়াবার প্রবাহ বন্ধে কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের একটি বিশেষ জোন স্থাপনের কথাও জানান তিনি।
মন্ত্রী জানান, ২০১৭ সালে এক লাখ ৩২ হাজার ৮৮৩ জন মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে এক লাখ ৬ হাজার ৫৩৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ সময়ে ৪ কোটি ৭৯ হাজার ৪৪৩ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
এ বছর (জানু-মার্চ) ২৭ হাজার ৩৪০টি মামলায় ৩৫ হাজার ১১২ জন গ্রেফতার এবং ৩ কোটি ২৮ লাখ ৬১১পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে।
২০১৬ সালে ৮৭ হাজার ১৪ জন মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ৬৯ হাজার ৬৩৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ সময় ২ কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার ১৭৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ইয়াবা পাচাররোধে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে তিনটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে মিয়ানমারকে ইয়াবার উৎপাদন ও প্রবাহ বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ মিয়ানমার সীমান্তে অবস্থিত ইয়াবা তৈরির কারখানা সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার অভাবে এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনও অগ্রগতি হয়নি।
মাদকের ভয়াল থাবা থেকে যুবসমাজকে রক্ষায় সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠন, আলোচনা সভা ও সেমিনার অনুষ্ঠানের পাশাপাশি পোস্টার, লিফলেট, স্টিকার, স্যুভেনির প্রকাশ ও বিতরণের কাজ অব্যাহত আছে। এছাড়া, শুক্রবারের জুমার নামাজের খুতবার আগে মাদকবিরোধী বয়ানের মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণে ধর্ম মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে।’
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ও সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ছাড়াও জেলা প্রশাসন অবৈধ মাদক নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখছে উল্লেখ করে সংরক্ষিত আসনের হাজেরা খাতুনের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত বছর (২০১৭) ১২ হাজার মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৫ হাজার ৯৯১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ৬ হাজার ৪৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ৪৭ লাখ ৩ হাজার ৭৬০ টাকা অর্থদণ্ড ও ছয় হাজার ৫৪১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। ২০১৮ সালে (মে পর্যন্ত) ৪ হাজার ৭৫৪টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ২ হাজার ৪১৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ সময় ২ হাজার ৪৪৮ জনকে গ্রেফতার, ১৭ লাখ ১২ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও দুই হাজার ৬৫৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
মাদক আইনে শাস্তি বাড়ানোর উদ্যোগের কথা জানিয়ে পিনু খানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যমান আইনে কোনও ব্যক্তির দখলে/কর্তৃত্বে/অধিকারে মাদক পাওয়া না গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ নেই। ফলে মাদক ব্যবসায় জড়িত মাস্টারমাইন্ডরা সহজেই পার পেয়ে যায়। মাদক ব্যবসায় পৃষ্ঠপোষকতাকারী ও মাদকের গডফাদারসহ মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের লক্ষ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে মাদক ব্যবসার পৃষ্ঠপোষক ও মাদকের গডফাদারসহ মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।’
অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত নয় ৪ কোটি ৫৮ লাখ মানুষ
ইসরাফিল আলমের প্রশ্নের জবাবে লেবার ফোর্স সার্ভের উদ্ধৃতি দিয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, কোনও ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত নন, এমন জনশক্তির সংখ্যা ৪ কোটি ৫৮ লাখ। মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী দেশের মোট জনসংখ্যার মধ্যে ৬ কোটি ৮ লাখ কর্মে নিয়োজিত এবং ২ কোটি ৭০ লাখ বেকার।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য তুলে ধরে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘দেশের মোট জনসংখ্যার মধ্যে ১৫ বছরের কম বয়সী ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ, পনের থেকে ৬৪ বছর পর্যন্ত ৬৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ।’
মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী দেশের প্রতিবন্ধী জনসংখ্যার হার দশমিক ৯০ শতাংশ। এরমধ্যে পুরুষ দশমিক ৯৮ শতাংশ ও নারী দশমিক ৮৩ শতাংশ।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।