সড়কের অবস্থা খারাপ, তাই ট্রেনের ওপর চাপ

 

কমলাপুর রেল স্টেশন

স্বজনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে এরই মধ্যে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার যাত্রা শুরু হয়েছে। ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিনের (১১ জুন) শুরু থেকেই রাজধানীর কমলাপুর রেল স্টেশনে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। এদিন সকাল থেকে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি এবং যানজটও আটকে রাখতে পারেনি ঘরমুখো মানুষকে। উপস্থিত যাত্রীদের অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়- সড়ক পথের অবস্থা খারাপ, তাই ট্রেনে বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। অনেক কষ্ট করে আগাম টিকিট সংগ্রহ করেছেন বলেও জানিয়েছেন যাত্রীরা। 

কমলাপুরে গিয়ে দেখা যায়, ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়ছে। আগতদের সবার হাতেই ব্যাগ, লাগেজসহ অন্যান্য জিনিসপত্র রয়েছে। দুর্ভোগ উপেক্ষা করে স্টেশনে আসার পরেই সবার মুখে মিষ্টি হাসি দেখা গেছে।

২ জুন যারা টিকিট সংগ্রহ করেছেন, তারাই আজ বাড়ি ফিরছেন। বেলা ১১টা পর্যন্ত প্রায় ২২টি ট্রেন দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রা করেছে। প্রতিটি ট্রেনেই যাত্রীদের ভিড় ছিলো। তবে আগামীকাল থেকে ঘরে ফেরা মানুষের এ ভিড় আরও বাড়বে বলে ধারণা করছেন স্টেশন সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ৯ টা ৩৫ মিনিটের দিকে ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এসে দাঁড়ায় একতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি। এই ট্রেনের জন্য স্ত্রী সন্তান নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন দিনাজপুরের বাসিন্দা মোতাচ্ছিম বিল্লাহা। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘২ জুন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চারটি টিকিট পেয়েছি। আজ পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাড়ি ফিরছি।’

কমলাপুর রেল স্টেশন

তিনি আরও বলেন, ‘রাস্তা অনেক খারাপ। তাই ট্রেনে যাচ্ছি। যেহেতু ঈদের আগের দুইদিন অতিরিক্ত চাপ থাকবে, তাই একটু আগেই বাড়ি ফিরছি।’

অন্যদিকে ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে তখনও যাত্রী নিয়ে অপেক্ষা করছিল জামালপুরগামী অগ্নিবীণা ট্রেনটি। সেই ট্রেনে স্বজনদের তুলে দিতে এসেছিলেন আকরাম হোসেন নামের একজন। তিনি বলেন, ‘মেয়ের কোচিং ও পরীক্ষা শেষ হয়েছে। দু’দিন পর ভিড় আরও বাড়বে। তাই এখন তাদের ট্রেনে তুলে দিচ্ছি। আমার অফিস ছুটি না হওয়ায় এখন যাচ্ছি না।’

এ প্রসঙ্গে কমলাপুর স্টেশন মাস্টার সিতাংশু চক্রবর্ত্তী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যাত্রীদের চাপ একটু বাড়ছে। এবার ঈদের সময় ঢাকা থেকে প্রতিদিন প্রায় লাখেরও বেশি যাত্রী বহন করতে পারবে।’

তিনি আরও জানান, ‘অগ্রিম টিকিটসহ সব মিলিয়ে ৭৫ হাজারের মতো টিকিট দেওয়া হয়েছে। ঈদের আগে যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী কিছু স্ট্যান্ডিং টিকেটও দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে প্রায় একলাখ যাত্রী যেতে পারবে প্রতিদিন।’