প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ৭০টি ঘটনায় ১২ জন শিশু ও ২৩ নারী ও কন্যাশিশুসহ ২০৯ জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্য এবং ৭৪টি বাড়ি বা পরিবার তল্লাসিসহ ১২৫টি পরিবার মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছে। গত ছয় মাসে হত্যা, গণধর্ষণ, ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, শারীরিক নির্যাতন, অবৈধ গ্রেফতার ও আটক, সম্পত্তির ক্ষতিসাধন ও অবৈধভাবে ঘরবাড়ি তল্লাশির ঘটনা ঘটে।
ছয় মাসে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যদের অবৈধভাবে গ্রেফতার, আটক ও ঘরবাড়ি তল্লাসি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষত চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে যারা কাজ করছেন তাদের বিরুদ্ধে সাজানো মামলা দায়ের বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব অভিযোগে অবৈধ গ্রেফতার, জেলে প্রেরণ, ক্যাম্পে সাময়িক আটক ও নির্যাতন, ঘরবাড়ি তল্লাসির ঘটনা ঘটছে। গত ছয় মাসে ৯৬ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তল্লাসির কোনও আইনি দলিল বা কোনও অভিযোগ ছাড়াই মধ্যরাতে ঘুম থেকে জাগিয়ে ৭৪টি ঘরবাড়ি তল্লাসি করা হয়েছে।
কাপেং ফাউন্ডেশন জানায়, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারী ও কন্যাশিশুদের অবস্থা খুবই নাজুক। গত ছয় মাসে মোট ২৩ জন নারী ও কন্যাশিশু হত্যা, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা, ধর্ষণের চেষ্টা, যৌন হয়রানি ইত্যাদি শিকার হয়েছে। তার মধ্যে বান্দরবান, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, ময়মনসিংহ, রাঙ্গামাটি ও ঢাকায় ২ জন কিশোরীকে ধর্ষণের হত্যা ও অপর আরও ৪ নারীকে খুন, ২ জনকে দলগতভাবে ধর্ষণ, ৭ জনকে ধর্ষণ, ৫ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা এবং ৩ জনকে যৌন হয়রানি ও শারীরিক হামলা করা হয়। মে মাসে চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডে দুই ত্রিপুরা কিশোরীকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার লোমহর্ষক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এছাড়া এপ্রিল ও জুন মাসে যথাক্রমে বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে পৃথক দু’টি ঘটনায় দুই জন ত্রিপুরা কিশোরী গণধর্ষণের শিকার হয়। সবচেয়ে হৃদয় বিদারক ঘটনার অভিযোগ উঠেছে গত জানুয়ারি মাসে রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়িতে দুই আদিবাসী মারমা বোনের মধ্যে একবোনকে ধর্ষণ ও আরেক বোনকে যৌন হয়রানির ঘটনা। জানুয়ারিতে ঘটনার পর এখন পর্যন্ত বাবা-মাসহ তাদের রাঙ্গামাটি পৌরসভার ভেদভেদী এলাকার একটি ঘরে পুলিশ পাহারায় অনেকটা অন্তরীণ করে রাখা হয়েছে।
এদিকে, দীর্ঘ ২২ বছর পরও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক কল্পনা চাকমার অপহরণের কোনও হদিস মেলেনি। নারী অধিকার কর্মীরা কল্পনা চাকমাকে অপহরণের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার উচ্চপর্যায়ে তদন্ত দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে।