আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পতাকা মিছিল ও বিক্ষোভ শুরু করার আগে ১৫-২০ জন ছাত্রলীগ নেতা মোটরসাইকেলে শহীদ মিনারে আসেন। তারা এসে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেনকে মারধর করে এবং মোটরসাইকেলে করে তুলে নিয়ে যায়।
এদের একজন অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগের এসব নেতা কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা ফারুককে তুলে নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘‘তারা ফারুক ভাইকে প্রচুর মেরেছে। তার মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়েছে। তাকে হসপিটালের সামনে থেকে গাড়িতে করে তুলে নিয়ে গেছে। আমরা যখন জিজ্ঞেস করলাম তাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন?’ তারা বলে, ‘আমরা ফারুক ভাইয়ের হলের ছোটভাই। হলে নিয়ে যাচ্ছি।’ তখন তারা আমাদের বলে, ‘তোরা কে? তুই এখানে কেন আসছিস?’’
ছাত্রলীগ নেতারা আন্দোলনরত মেয়েদের প্রকাশ্যে নানা ধরনের হুমকি দিচ্ছেন এমন অভিযোগ তুলে তাদের একজন বলেছেন, ‘এখন তারা প্রকাশ্যে হুমকি দেয়। এখন তারা বলে ছেলেদের গুম করে দেওয়া হবে। তারা এত বড় সাহস কোথায় পাচ্ছে? তারা বলে, আমরা নাকি তাদের ওয়াইফ। এগুলো কী ধরনের কথা?’
কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা ফারুককে মারধরের সময় আন্দোলনরত মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ করে এই দুই নারী শিক্ষার্থী বলেন, ‘তারা (ছাত্রলীগ নেতারা) গায়ে হাত দিয়েছে, তারা ধাক্কাধাকি করে আমাদের সেখান থেকে চলে যেতে বলেছে, তারা তুই করে কথা বলতেছে। তারা এমন বেয়াদব, একটা মেয়ের সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হয় ন্যূনতম সেটাও জানে না। আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী একজন মেয়ে , বিরোধীদলীয় নেত্রী মেয়ে, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেয়ের সঙ্গে এমন আচরণ করা হলো কেন?’
কারা হামলা করেছে জানতে চাইলে তারা বলেন, হামলাকারীদের তারা চেনেন কিন্তু নাম জানেন না। নারীদের একজন কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমি আসলে নাম বলতে পারবো না। তারা ছাত্রলীগের বিভিন্ন হলের নেতা। মোটরসাইকেলে এখানে এসেছিল।’
তারা আরও বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের মতো একটি যৌক্তিক আন্দোলনকে ছাত্রলীগ দিয়ে প্রতিহত করা যাবে না।
এর আগে শনিবার (৩০ জুন) কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সংবাদ সম্মেলন করার কথা ছিল। এর কিছুক্ষণ আগে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূরসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। সাধারণ ছাত্রদের ওপরও হামলা চালানো হয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতারা অভিযোগ করেছেন, ছাত্রলীগ এই হামলা চালিয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রলীগ দাবি করেছে, কোটা নিয়ে আন্দোলনকারীদের অন্তর্কলহের জের ধরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ছবি: নাসিরুল ইসলাম।