পুলিশি বাধায় অভিভাবকদের সমাবেশ পণ্ড

 

প্রেসক্লাবের সামনে আটক করে পুলিশের গাড়িতে তোলা হচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রেহনুমা আহমেদকে

কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনে ছাত্রদের ওপর হামলার প্রতিবাদে অভিভাবকদের ডাকা সমাবেশ করতে দেয়নি পুলিশ।  এসময় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষক ও মানবাধিকার কর্মী রেহনুমা আহমেদ এবং সাবেক ছাত্রনেতা বাকি বিল্লাহকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় তাদের আটক করা হয়।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সারাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, গ্রেফতার ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও নাগরিক সমাজের প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশস্থলে অভিভাবক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে বাধা দেয় পুলিশ। আটক করা হয় বাকি বিল্লাহ ও রেহনুমা আহমদকে। এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ফাহমিদুল হক আটককৃতদের ছাড়িয়ে আনতে গেলে পুলিশি লাঞ্ছনার শিকার হন  বলে অভিযোগ করেছেন।  পুলিশ তার গায়ে হাত তুলেছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

ফাহমিদুল হক বলেন, আমরা ছাত্রদের ওপর চালানো হামলার প্রতিবাদে উদ্বেগ জানাতে এসেছিলাম। আমাদেরকে সমাবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। দুজনকে আটক করা হয়েছে। আমি তাদের ছাড়িয়ে আনতে গেলে আমাকে পুলিশ লাঞ্ছিত করেছে। গায়ে হাত তুলেছে। ধস্তাধস্তি করেছে। এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অভিভাবকদের ডাকা সমাবেশ পণ্ড করে দেয় পুলিশ

সমাবেশে আসা গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের ভেতরে ছাত্রলীগ হামলা চালিয়েছে, আমাদের সন্তানদের আহত করেছে। অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। আজকে এখানে তাদের অভিভাবকরা সহ আমরা সবাই আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তা জানাতে এসেছি। আমরা জানি না যে এখানে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। আমরা পুলিশের কাছে কাগজপত্র বা নির্দেশনা দেখতে চেয়েছি তারা তাও দেখাতে পারেনি। ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি বাকি বিল্লাহ এবং অধ্যাপক রেহনুমা আহমেদকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে আমাদের মানববন্ধন শুরু হওয়ার আগেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ফাহমিদুল হককে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।

সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ও সমাবেশের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম বলেন, আমরা এখানে উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের পক্ষ থেকে জানাতে এসেছি যে আমাদের সন্তানরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে নিরাপদ নয়। আমরা চাই অবিলম্বে আমাদের সন্তানদের ওপর সরকার ও রাষ্ট্রের প্রশ্রয়ে, নির্দেশে বা অনুমোদনে যে হামলা ও নির্যাতন পরিচালিত হচ্ছে সে বিষয়ে অবিলম্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দেওয়া হোক। যাদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে ও গ্রেফতার করা হয়েছে সেসব মামলা প্রত্যাহার করে তাদের শীঘ্রই মুক্তি দেওয়া হোক। যাদেরকে তুলে নেওয়া হয়েছে এবং যারা নিখোঁজ তাদেরকে অবিলম্বে অভিভাবকদের কাছে ফেরত দেওয়া হোক। আহতদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক এবং হল ক্যাম্পাসে যে দলীয় সন্ত্রাস ও ভীতির রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে তার চিরতরে অবসান ঘটানো হোক।

সমাবেশ করতে না দেওয়া ও আটকের বিষয়ে ডিএমপি রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, আমরা নিয়মতান্ত্রিক সমাবেশের অনুমতি দিয়ে থাকি। কিন্তু তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উস্কানি ছড়িয়ে সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছিল। তারা সুনির্দিষ্ট কোনও ব্যানারে সমাবেশ করতে আসেনি। তাই তাদের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করা হয়েছে।