মঙ্গলবার (৩ জুন) শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে বিলের ওপর দেওয়া জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলোর নিষ্পত্তি করা হয়।
১৯৭২ সালের ১৬ নম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয়করণ করা হয়। পরবর্তীতে এর সঙ্গে আরও কিছু সংশোধনী আনা হয়। এটি ইংরেজিতে ছিল ও অনেকগুলো অধ্যাদেশ সংযোজিত ছিল।
মূল আইনে রাষ্ট্রপতির আদেশে যে তফসিল ছিল সেখানে ২৫০ এর বেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা হয়েছিল, সেটিই বাংলায় করা হয়েছে।
এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পেট্রোবাংলা ছিল। পেট্রোবাংলা আলাদা মন্ত্রণালয়ে চলে যাওয়ায় এখান থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
বিলে করপোরেশনের অনুমোদিত মূলধন কী পরিমাণ হবে তা সরকারের হাতে রাখা হয়েছে।
আইনের সংজ্ঞায় নতুন বিষয় সংযোজন করা হয়েছে, যেমন তফসিলভুক্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এগুলো বাদ দেওয়া এবং কোম্পানি আইন, তফসিল, বিধি, কয়েকটি শব্দ যোগ করা হয়েছে। সরকারের মালিকানাধীন বর্তমান শিল্প প্রতিষ্ঠানের নাম তফসিলে রাখা হয়েছে, যেগুলো বিক্রি হয়ে গেছে সেগুলো রাখা হয়নি।
বিলের তফসিলে বাংলাদেশ জুটমিলের আওতায় রয়েছে ৩১টি, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিল করপোরেশনের ৩২টি, চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের আওতায় ১৬টি, ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের আওতায় ১৩টি এবং বিসিআইসির আওতায় ১৯টি শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘সংশোধনী অধ্যাদেশ হালনাগাদ ও যুগোপযোগীকরণের উদ্দেশ্যে বিলটি পাসের প্রস্তাব করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, “আদালতের রায়ে সংবিধানের পঞ্চম ও সপ্তম সংশোধনী বিল বাতিল হওয়ায় ‘বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্টারপ্রাইজ (ন্যাশনালাইজেশন) অর্ডার, ১৯৭২ অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারায়। মূল আইনটি ১০টি সংশোধনী হওয়ার এর প্রায় সম্পূর্ণ অংশই সংশোধিত হয়ে যায় এবং পেট্রোবাংলা সম্পর্কিত পৃথক আইন হওয়ার কারণে ওই অংশ বাদ দিয়ে ১০টি সংশোধিত অধ্যাদেশ সমন্বয়ে নতুন আইন পাসের প্রস্তাব করা হয়েছে।”