নতুন ভবনগুলোতে অবস্থানকারীদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। নিজের ফ্ল্যাট ও আশপাশের এলাকা, লিফট, সিঁড়ি ব্যববহারকারীর নিজেকেই পরিচ্ছন্ন রাখতে সচেষ্ট থাকার সঙ্গে সঙ্গে রান্নাঘরের বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার জন্যও পরামর্শ দেন তিনি।
এছাড়া ভবনের আশপাশে ও ব্যালকনিতে বৃক্ষরোপণের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। কলোনির পুরনো ভবনগুলো ভেঙে এখানে হাঁটার জায়গা, পার্ক, জলাধার, খেলার মাঠ ও বাগান তৈরি করা হবে বলেও জানান তিনি।
মতিঝিল সরকারি কলোনিতে ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমি চাই কর্মস্থল থেকে ফিরে এসে আপনারা যেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটি ভালো জায়গায় থাকতে পারেন। সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসন সমস্যা সমাধানে দেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই জাতির পিতা আজিমপুর কলোনির ভবনগুলোর একটি করে তালা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন।’
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আজিমপুর কলোনিতে ছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। সেই স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি জানান, ছোট ভাই শেখ কামালকে সঙ্গে নিয়ে নৌকায় চড়ে গোপালগঞ্জ থেকে আজিমপুর কলোনিতে এসে আত্মীয়ের বাসায় ওঠেন তারা। জাতির পিতা তখন কারাগারে অন্তরীণ ছিলেন। নিজেকে আজিমপুর গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই এলাকা আমার শৈশব থেকেই অত্যন্ত পরিচিত।’
দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখার জন্য সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার মন্তব্য, ‘সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় আছে বলেই আজ উন্নয়ন দৃশ্যমান হচ্ছে। জনগণ যখনই নৌকায় ভোট দিয়েছে তখনই বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে।’
সরকারি কর্মচারীদের জন্য ১২৩ ভাগ বেতন বৃদ্ধিসহ কর্মস্থলে তাদের পদবীগুলোকে যুগোপযোগীকরণে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। সরকারের সাফল্যের জন্য সরকারি কর্মচারীদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের প্রশংসা করেন তিনি।
ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে আজিমপুরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং মতিঝিলে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. দবিরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার উভয় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা দেন।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সুবিধা সৃষ্টির লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ঢাকা, চট্টগ্রাম মহানগরীসহ অন্যান্য শহরে বহুতল বিশিষ্ট ২৩টি আবাসিক প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এসবের আওতায় বিভিন্ন আয়তনের মোট ৯ হাজার ৭০২টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ১৯টি প্রকল্পের আওতায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ৮ হাজার ১৯০টি ফ্ল্যাটের নির্মাণ কাজ অব্যাহত রয়েছে।
রাজধানীর মতিঝিল ও আজিমপুর সরকারি কলোনি এলাকায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১০টি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়। এগুলোতে সব ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিদ্যমান আবাসন সুবিধা ৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪০ শতাংশে উন্নীত করার অংশ হিসেবে পৃথক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী এসব ভবন উদ্বোধন করেন। মতিঝিলে চারটি ২০ তলা ভবনে ৫৩২টি ও আজিমপুরে ৬টি ২০ তলা ভবনে ৪৫৬টি ফ্ল্যাট তৈরি করা হয়েছে।