জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াংহি লি বলেছেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার সরকার কোনও পদক্ষেপ নেয়নি।
সপ্তাহব্যাপী বাংলাদেশ সফর শেষে রবিবার (৮ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ইয়াংহি লি বলেন, ‘সম্প্রতি মিয়ানমার থেকে এসেছে এমন কয়েকজন রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা গ্রামে ঢুকে তাদের ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড গ্রহণ করতে বলে, অন্যথায় দেশ থেকে চলে যেতে হবে।’
প্রসঙ্গত, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড চায় না, তারা চায় নাগরিকত্ব।
ইয়াংহি লি বলেন, ‘একজন রোহিঙ্গা নারী বলেছেন, তার ১২ বছরের ছেলেকে মিয়ানমার বাহিনীর সদস্যরা কেটে টুকরো টুকরো করেছে।’
বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্তের জিরো পয়েন্টে চার হাজার
রোহিঙ্গা বসবাস করছে। সেখানও গিয়েছিলেন ইয়াংহি লি।
সেখানকার অবস্থা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন আগে কয়েকটি বাচ্চা ছেলে ফুটবল খেলে ফিরছিল। তাদের মধ্যে একজন থেকে গিয়েছিল। মিয়ানমারের দিক থেকে একটি গুলি ছুটে এসে তাকে আহত করে।’
ইয়াংহি লি বলেন, ‘ আমি এ ধরনের কাপুরুষোচিত কাজের তীব্র নিন্দা জানাই।’
বলেন, তিনি তার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট আগামী অক্টোবরে জাতিসংঘে জমা দেবেন। তিনি মিয়ানমারের পরিস্থিতিও দেখতে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মিয়ানমার সরকার তাকে অনুমতি দেয়নি।
ভারতে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের অব্স্থা দেখতেও তিনি ভারত যেতে চেয়েছিলেন। ভারত কোনও সাড়া দেয়নি। ইয়াংহি লি বলেন, “ভারত সরকার আমাকে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ কিছুই বলেনি।”
জাতিসংঘ ও মিয়ানমারের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির বিষয়ে ইয়াংহি লি বলেন, ‘আমি জাতিসংঘের কাছে চুক্তির একটি কপি চেয়েছিলাম। জাতিসংঘের কেউ আমাকে কপি দেয়নি।’