শাহজাহান খান বলেন, ‘ ঈদের সময় রাজধানীর সদরঘাটে শৃঙ্খলা রক্ষা ও যাত্রীদের নিরাপত্তা বিধানের জন্য ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি আনসারসহ কমিউনিটি পুলিশের ব্যবস্থা থাকবে। সদরঘাট থেকে বাহাদুরশাহ পার্ক পর্যন্ত রাস্তা হকারমুক্ত রাখা হবে। সদরঘাটে পর্যাপ্ত স্টিলের ডাস্টবিন স্থাপন করা হবে। জনগণকে ডাস্টবিন ব্যতীত নদীতে কিংবা গ্যাংওয়েতে ময়লা আবর্জনা ফেলতে নিরুৎসাহিত করা হবে এবং স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব ঘাটে এ ব্যবস্থা চালু করা হবে। টার্মিনালগুলোতে সতর্কতামূলক বাণী মাইকে ও মনিটরে প্রচারের ব্যবস্থা করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘ঘাট ইজারাদারদের মাধ্যমে যাত্রী হয়রানি বন্ধে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। লঞ্চের অনুমোদিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া আদায়ে এবং নদীর মাঝপথে নৌকায় যাত্রী উঠালে সংশ্লিষ্ট লঞ্চ মালিকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্পিডবোটে চলাচলের সময় যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট পরিধান নিশ্চিত করতে হবে। রাতের বেলায় সকল প্রকার মালবাহী জাহাজ, বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধ রাখতে হবে।’
সভায় জানানো হয়, নৌপথে ডাকাতি, চাঁদাবাজি, শ্রমিক-যাত্রীদের হয়রানি ও ভীতিমূলক অবস্থা প্রতিরোধ করার জন্য রাতে পুলিশ টহলের ব্যবস্থা এবং নদীতে এলোমেলোভাবে ট্যাংকার, লঞ্চ, কোস্টার বার্জ ইত্যাদি চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কোনক্রমেই লঞ্চের যাত্রী ও মালামাল ওভারলোড করা যাবে না। প্রত্যেক লঞ্চের সিড়িতে দুই পাশে প্রশস্ত রেলিং এর ব্যবস্থা করতে হবে। সদরঘাট, নদীর মাঝপথ থেকে নৌকা দিয়ে যাত্রী লঞ্চে/নৌযানে উঠতে না পারে তার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এজন্য বাংলাদেশ কোস্টগার্ডকে নিয়োজিত করতে হবে। কেবিনের যাত্রীদের ছবি, মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর সংরক্ষণ করতে হবে।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ঈদের আগে তিন দিন ও ঈদের পরে তিন দিন নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য ব্যতীত সাধারণ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান ফেরিতে পারাপার বন্ধ রাখতে হবে। লঞ্চের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিতকল্পে নৌপথে সব মাছ ধরার জাল পাতা বন্ধ রাখতে হবে। নৌযানে পর্যাপ্ত বয়া, বাতি ও মার্কিং এর ব্যবস্থা করতে হবে। শিমুলিয়া-কাঁঠালড়ী এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়াসহ অন্যান্য সকল নৌচ্যানেলে প্রয়োজনীয় ড্রাফট নিশ্চিত করতে হবে। ফেরিঘাট ব্যবস্থাপনা কমিটি সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা নিয়ে ঘাটে নির্বিঘ্নে সিরিয়াল দেওয়ার ব্যবস্থা করবে।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাটগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই নিয়ন্ত্রণের জন্য মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হবে। গার্মেন্টস ও নিটওয়্যর সেক্টরে ঈদের ছুটি পুনর্বিন্যাস করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, এফবিসিসিআই, বিজেএমইএ, বিকেএমইএ এর সঙ্গে সভা করতে হবে।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুস সামাদ, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর মোজাম্মেল হক, বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান মফিজুল হক, নৌপরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালক কমডোর সৈয়দ আরিফুল ইসলাম, ডিআইজি নৌপুলিশ মো. মারুফ, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার প্রমুখ।