নিরাপদ সড়ক ও দুই শিক্ষার্থীকে বাসচাপায় ‘হত্যার’ বিচারের দাবিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বুধবার (১ আগস্ট) চতুর্থ দিনের মতো সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। তাদের সড়ক অবরোধের কারণে রাজধানীর বেশিরভাগ এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বেশিরভাগ এলাকায় বিকাল চারটা পর্যন্ত তারা সড়ক অবরোধ করে রাখলেও কোথাও মারমুখী ভূমিকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নামতে দেখা যায়নি।
রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহন না থাকায় আগের তিনদিনের মতো এদিনও সাধারণ যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন। সকাল থেকে উত্তরা, মিরপুর, ফার্মগেট, কাওরানবাজার, শাহবাগ, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, শনির আখড়া, মাতুয়াইল, মেরাদিয়া, বনশ্রী, রামপুরাসহ ঢাকার বিভিন্ন স্থানে যানচলাচল ছিল খুবই কম। রাস্তায় গাড়ি কম থাকায় সাধারণ মানুষ পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যাচ্ছে। তবে এ নিয়ে বিরক্তি দেখায়নি কেউ। জরুরি কাজ থাকায় অনেক যাত্রীকে বাধ্য হয়ে উত্তরা থেকে ফার্মগেট, গুলিস্তান, মতিঝিল, পান্থপথসহ শহরের বিভিন্ন প্রান্তে হেঁটে যেতে ও আসতে দেখা গেছে। তবে নিজেরা দুর্ভোগের শিকার হলেও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি তাদের ছিল অকুণ্ঠ সমর্থন।
সতীর্থদের হারানোর বেদনা নিয়ে শিক্ষার্থীরা মাঠে নেমে একদিকে যেমন নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্লোগান দেয়, পাশাপাশি দিয়া খানম ও আব্দুল করিম সজীবের হত্যাকারীদের বিচার চেয়ে তাদের কণ্ঠে ছিল এক সুর—‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে রাজধানীর কোথাও মারমুখী ভূমিকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নামতে দেখা যায়নি। সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের সামান্য উপস্থিতি দেখা দিলেও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে কোথাও তাদের বাধা দেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্পটে আন্দোলনের সময় ‘পুলিশের সঙ্গে বিরোধ নাই’, ‘পুলিশের সন্তানও স্কুলে পড়ে’ ইত্যাদি স্লোগান দিয়ে ও প্ল্যাকার্ড লিখে নজর কাড়ে।
রাজধানীর র্যাডিসন হোটেলের সামনে কালশী ফ্লাইওভারের নিচে লিটন নামে আন্দোলনরত এক স্কুলশিক্ষার্থী জানান, ‘ আমরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে এবং আমাদের দুই শিক্ষার্থীকে বাসাচাপা দিয়ে হত্যার বিচারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছি। আমাদের সঙ্গে পুলিশের কোনও বিরোধ নাই। পুলিশের সন্তানও স্কুলে পড়ে। তাই আমাদের দাবিগুলো তাদেরও ভেবে দেখতে হবে।’
আজ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে আরেকটি অভিনব বিষয় ছিল উল্টোপথে আসা গাড়ি থামিয়ে দেওয়া। সাধারণ যাত্রীদের গাড়ি তো বটেই, শাহবাগ এলাকায় উল্টোপথ দিয়ে আসা বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের গাড়িও থামিয়ে দিয়েছে তারা। বাণিজ্যমন্ত্রী তাদের কাছে পথ ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানালে তারা সাফ জানিয়ে দেয়, ‘আইন সবার জন্য সমান।’ একই এলাকায় উল্টোপথে আসা পুলিশের একটি গাড়ি থামিয়ে একই কথা বলে সে গাড়িও ফিরিয়ে দেয় শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, আমরা ধৈর্য ও সহনশীলতার মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।
সূত্র জানায়, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের ওপর যেকোনও ধরনের উগ্র আচরণ থেকে বিরত থাকার জন্য এবং ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য মাঠপর্যায়ের পুলিশদের নির্দেশনা দিয়েছেন, যাতে পুলিশের কোনও আচরণে নতুন করে কোনও ইস্যু তৈরি না হয়। এ কারণেই রাজধানীর কোথাও পুলিশের মারমুখী আচরণ দেখা যায়নি।