ওই পুলিশ সদস্য শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘আমার সঙ্গে লাইসেন্স নেই, গাড়ির রেজিট্রেশন করা নেই, এটা সরকারি কেনা গাড়ি। আমার সবই আছে কিন্তু আজ সকালে যখন বাসা থেকে বের হয়েছি, তখন সঙ্গে লাইসেন্স নিতে ভুলে গেছি।’ এসময় শিক্ষার্থীরা বলে, ‘না না ভুলে গেলে চলবে না। মামলা নিতে হবে, আসেন ট্রাফিক পুলিশ বক্সে আসুন। এসময় ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি মামলা নেব, সবই নেব। আজকের জন্য আমাকে ক্ষমা করেন’।
তবে শিক্ষার্থীরা কোনোভাবেই মানতে চায় না। তারা বলে, মামলা নিতেই হবে। হাতজোর করে শিক্ষার্থীদের ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আঙ্কেল, আমার ছেলে নবম শ্রেণিতে পড়ে, আমি নিজেও আপনাদের সঙ্গ এমকত। আজকের দিনটা আমাকে ক্ষমা করেন।’
এরপরও যখন শিক্ষার্থীরা তাকে না ছাড়ে , তখন পুলিশ সদস্য আবারও বলেন, ‘আমি ক্ষমা চাচ্ছি, আঙ্কেল, আপনাদের কাছে আমি ক্ষমা চাচ্ছি। এমন ভুল আর হবে না।’
এদিকে, ভিড়ের মধ্যে থাকা এক শিক্ষার্থী প্রশ্ন করে, ‘আপনার নেইম প্লেট কই? এই প্রশ্নের জবাবে ওই পুলিশ সদস্য বলেন, ‘সকালে তাড়াতাড়ি বের হওয়ার কারণে কিচ্ছু নিয়ে বের হতে পারিনি। আঙ্কেল, এটাও কখনও ভুল হবে না।’
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সড়কে অবরোধ তুলে নেওয়ার পর আবার যানবাহন চলতে শুরু করে। এসময় সকল শিক্ষার্থীরা ঘরে ফিরে যেতে শুরু করে আবার অনেকে সড়কে থেকেই যানবাহন চলাচলে সহায়তা করতে থাকে।
এর কিছু সময় পর, বিমানবন্দর সড়কে শিক্ষার্থীরা যখন বিআরটিসি’র একটি বাস থামায়, চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও কাগজপত্র চেয়ে শিক্ষার্থীরা যখন সামনে দাঁড়ায়, ঠিক তখন বাসের চালক হেঁচকা টান দিলে এক শিক্ষার্থী ধাক্কা খেয়ে পড়ে যায়, তবে কোনও ক্ষতি হয়নি।
এই ঘটনা কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা আবারও ক্ষুব্ধ হয়ে বিআরটিসি’র ছয়টি বাস আটকে দেয় এবং পূনরায় বিভিন্ন গাড়ি থামিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও কাগজ তল্লাশি শুরু করে। শিক্ষার্থীরা ওই সময় সড়ক ছেড়ে ঘরমুখো অবস্থায় ছিল।
এদিকে, শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে একটি গাড়ি আটক করে তল্লাশি চালায়। তবে চালক ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখালেও গাড়ির টেক্সটোকেনের কাগজ দেখাতে পারেনি। এতে শিক্ষার্থীরা ওই গাড়িটি বিমানবন্দর পুলিশ বক্সের সামনে নিয়ে যায় এবং চালককে মামলা দেওয়ার জন্য পুলিশকে অনুরোধ করে। তবে পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে তাদের বাসায় ফিরে যেতে অনুরোধ করেন। সবাইকে মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন, ‘সারাদিন তোমরা রাজপথে আন্দোলন করলে এখন একটু বিশ্রাম করো। আমরা তোমাদের সঙ্গে আছি।’ এরপরও ওই চালকদের মামলা দিতে অনুরোধ করে এবং সেখান থেকে চলে যায় শিক্ষার্থীরা।
গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভারের মুখে জাবালে নূর পরিবহনের বাসের রেষারেষিতে দুই শিক্ষার্থী মারা যায়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আব্দুল করিম রাজীব ও অন্যজন একই কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী দিয়া খানম মীম ।
এ ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর থেকেই রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় তারা শতাধিক গাড়ি ভাঙচুর করে। ঘটনার দিন রাতেই দিয়ার বাবা জাহাঙ্গীর বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পরদিন এবং মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) র্যাব আলাদা অভিযানে তিন বাসের চালক এবং তাদের দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করে।