শুক্রবার (৩ আগস্ট) সকাল থেকেই মোটরসাইকেল, সিএনজি, প্রাইভেটকার থামিয়ে রেজিস্ট্রেশন, চালকের লাইসেন্সসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেক করতে দেখা গেছে ট্রাফিক পুলিশকে। কাগজপত্র ও চালকদের লাইসেন্স চেক করে ত্রুটি পেলেই জরিমানা করছেন তারা। পুলিশের এমন দায়িত্বশীলতা দেখে পথচারীদের কেউ কেউ হাততালি দিয়েছেন। ট্রাফিক পুলিশের এই সক্রিয় ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তাদের অনেকেই। ‘শাবাশ, শাবাশ’ ধ্বনি তুলে তাদের এই ভূমিকাকে সাধুবাদ জানান পথচারীরা।
মহাখালীর বাসিন্দা বশির উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দেখানো পথে লাইনে এসেছে ট্রাফিক পুলিশ। বাচ্চারা বৃষ্টিতে ভিজে দেখিয়ে দিয়েছে, আমরা কতটা অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি সড়কে।’
বিজয় সরণিতে ফ্লাইওভারের নিচে ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতায় খুশি স্থানীয় ও পথচারীরা। তাদের মধ্যে দুই বন্ধু একে অপরকে বলছিলেন, ‘ট্রাফিক পুলিশের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। নিরাপদ সড়কের পাশাপাশি রাস্তায় পরিবহন ব্যবস্থায় কীভাবে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা যায় তা দেখিয়ে দিয়েছে তারা। সদিচ্ছা থাকলে ট্রাফিক পুলিশের পক্ষে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব।’
এদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা বেড়েছে। শুক্রবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সামনে একটি বাস কিছুটা বেপরোয়া হওয়ায় এর সামনে অবস্থান নেয় একটি লেগুনা। তারপর দুই মোটরসাইকেল আরোহী বাসের সামনে দাঁড়িয়ে ড্রাইভারের কাছে লাইসেন্স দেখতে চায়। একইসঙ্গে তারা ওই চালককে সাবধান করে শাসিয়েছেনও।
দুই শিক্ষার্থীকে বাসচাপায় ‘হত্যার’ বিচার ও নিরাপদ সড়ক চাইসহ ৯ দফা দাবিতে গত পাঁচদিন রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করেছিল শিক্ষার্থীরা।
গত ২৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অদূরে বিমানবন্দর সড়কে (র্যাডিসন হোটেলের উল্টোদিকে) বাসচাপায় রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। ওইদিন দুপুর সাড়ে ১২টায় বিমানবন্দর সড়কের বাঁ-পাশে বাসের জন্য অপেক্ষা করার সময় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস তাদের চাপা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো দিয়া খানম মীম ও আব্দুল করিম। এ সময় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা জাবালে নূর পরিবহনের ওই বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় ও শতাধিক বাস ভাঙচুর করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণ ও নৌপরিবহনমন্ত্রীর অনৈতিক বক্তব্যের প্রতিবাদসহ ৯ দফা দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা। গত ১ আগস্ট বিকালে বাস মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক করে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
আরও পড়ুন- শ্রমিক ধর্মঘটে অচল সারাদেশ