গত ২৯ জুলাই দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বিমানবন্দর সড়কে র্যাডিসন হোটেলের বিপরীতে কালশী থেকে বিমানবন্দরগামী জাবালে নূর পরিবহনের একাধিক বাস প্রতিযোগিতা করে যাত্রী তুলতে গিয়ে পথচারী ও শিক্ষার্থীদের চাপা দেয়। এতে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী দিয়া খানম মীম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল করিম রাজীব নিহত হন। এ ঘটনার জেরে নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তাসহ শিক্ষার্থীদের ‘হত্যার’ বিচারের দাবিতে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। এ পটভূমিতে রাজধানীসহ সারাদেশে রাস্তায় পর্যাপ্তসংখ্যক গণপরিবহন নামানো হচ্ছে না। এতে দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ।
তবে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে যানবাহন ভাঙচুর ও শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতার কারণ দেখিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন মালিক-শ্রমিকরা। নগরীর বাস টার্মিনালগুলো থেকেও আন্তঃনগর কিংবা দূরপাল্লার কোনও বাসন ছেড়ে যায়নি। দুয়েকটা বাস ছাড়া ঢাকার বাইরে থেকেও তেমন কোনও গণপরিবহন ঢাকায় প্রবেশ করতে পারেনি। ভাঙচুরের আশঙ্কায় পরিবহন নামানো হয়নি বলে দাবি মালিকদের। ফলে অনেকটা বিপাকে পড়েছেন দূরপাল্লা ও রাজধানীর সাধারণ যাত্রীরা।
প্রায় একই কথা বলেন সায়েদাবাদ বাস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, ‘এখান থেকেও রাতে গাড়ি চলছে। দিনে আমরা নিরাপত্তা বোধ করি না। সে জন্যই যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। এখন শুরু হয়েছে। আবার কালও যদি একই চিত্র দেখা যায় তাহলে যানচলাচল বন্ধ থাকবে।’
এদিকে বিকেলে মহাখালী বাস টার্মিনালে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘আমরা যাতায়াত ব্যবস্থা ঠিক রাখার জন্য নাইট কোচ চালু রেখেছি। এক্সপোর্ট ইমপোর্টের যাতে কোনও ক্ষতি না হয় সে জন্য ট্রাক চলছে। কিন্তু নাইট কোচেও রাত সাড়ে ৯টার সময় বাধা দেওয়া হচ্ছে। তাহলে বলুন নিরাপত্তাটা কোথায়?’ তিনি বলেন, ‘শ্রমিকরা নিরাপত্তা বোধ করলে গাড়ি চলা শুরু হবে।’
ছবি: জনি হক