শনিবার সকাল থেকে নগরীর সায়েদাবাদ, গুলিস্তান, গাবতলী, শ্যামলী ও মহাখালী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, বাস টার্মিনালগুলো থেকেও আন্তঃনগর কিংবা দূরপাল্লার কোনও পরিবহন ছেড়ে যায়নি। নগরীতেও দূরপাল্লার কোনও পরিবহন প্রবেশ করেনি। তবে মাঝেমধ্যে বিআরটিসির দুই একটা বাস দেখা যাচ্ছে। ভাঙচুরের আশঙ্কায় পরিবহন নামাচ্ছেন না বলে দাবি করছেন মালিকরা। ফলে অনেকটা বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা বলছেন, তারা চাইলেও রাস্তায় পরিবহন নামাতে পারছেন না। নামালেই নানা অজুহাতে ভাঙচুর করা হচ্ছে। এখনও তারা সড়ককে নিরাপদ মনে করছেন না। তাদের অভিযোগ, সঠিক কাগজপত্র থাকার পরেও অনেক পরিবহন ভাঙা হয়েছে। গত কয়েক দিনে অন্তত চারশতাধিক পরিবহন ভাঙা হয়েছে। পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে আরও অন্তত ৮টি পরিবহন। হামলার শিকারও হয়েছেন অনেক শ্রমিক। এ অবস্থায় রাস্তা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তারা গাড়ি চলবেন না।
মহাখালী বাস টার্মিনাল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের করার কিছু নেই। আমরা গাড়ি নামাতে পারছি না। শ্রমিকরা নিরাপদ মনে করছে না। গতকয়েক দিনের চিত্র যেমন ছিল আজও তাই। তবে রাতে দূরপাল্লার বাস ছাড়া হবে।’
সকাল থেকে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ও যাত্রাবাড়ী মোড়ে অবস্থান নিয়েছে শ্রমিকরা। সরকার দলের কিছু কর্মী ও সমর্থকও তাদের সঙ্গে রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। এই এলাকায় শিক্ষার্থীরা ঝড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে তাদের ধাওয়া দেন তারা। পাশাপাশি কোনও পরিবহনই ছাড়তে দিচ্ছেন না শ্রমিকরা।
এদিকে নগর জুড়ে গণপরিবহন সংকট দেখা দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। কোনও পরিবহন না পেয়ে রিকশায় ও হেঁটে গন্তব্যে যাচ্ছেন নগরবাসী।
লক্ষ্মীপুর যাওয়ার জন্য সকালে যাত্রাবাড়ী আসেন মোজাম্মেল মিয়া। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মনে করেছিলাম অন্তত আজ থেকে হলেও আন্দোলন কিছুটা শিথিল হবে। কিন্তু আজও কোনও পরিবহন নেই। এখনও বসে আছি।’
সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা ও নগর বাস টার্মিনালের বাস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শ্রমিকরা কাজে যাচ্ছে না। নিরাপত্তার জন্য তারা যানবাহন নামাচ্ছে না। তাই আমরা গাড়ি নামাচ্ছি না। দূরপাল্লার কোনও বাসও ছাড়েনি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা গাড়ি নামাবো।’
শুক্রবার বিকালে মহাখালী বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘নিরাপত্তাহীনতায় শ্রমিক ও মালিকরা রাস্তায় বাস নামাচ্ছেন না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাস নামাবেন।’
এদিকে, শনিবারও সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সড়কে আন্দোলনে নেমেছে শিক্ষার্থীরা। তারা চলাচলরত যানবাহনের কাগজপত্র চেক করছেন। পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে যানবাহন চালানোর জন্যও সহায়তা করছেন। এসময় কোনও বাস দেখা যায়নি।
আরও পড়ুন- রাতে চললেও সকাল থেকে ফের সারাদেশে বাস চলাচল বন্ধ