রবিবার (৫ আগস্ট) দুপুরে এই সংলাপ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র সাঈদ খোকন এই তথ্য জানান।
এসময় মেয়র বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন করেছে তাকে আমরা সমর্থন করি। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তো বছরজুড়ে এই কাজটি করতে পারবে না। এটা তো তাদের দায়িত্ব নয়। তবে তারা আমাদের যে পথ দেখিয়ে দিয়েছে আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ রাইলাম। আমরা তাদের এই কাজটি প্রতিকী হিসেবে নিতে পারি। বিষয়টি নিয়ে সোমবার নগর ভবনে একটি উন্মুক্ত সংলাপ করবো।’
মেয়র খোকন বলেন, ‘গত ২৯ জুনের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের পুঞ্জিভূত ক্ষোভে বিষ্ফোরণ ঘটে। শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে আসে। শিক্ষার্থীদের এই অহিংস আন্দোলন ও দাবি সারা দেশের মানুষ সমর্থন করেছে। সরকার প্রধান তাদের দাবি মেনে নিয়েছেন। কিন্তু একটি বিষয় লক্ষণীয়, শুরুতে শিক্ষার্থীদের এই অহিংস আন্দোলন ও দাবি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ছিল। সড়কে শৃঙ্খলা আনার জন্য তাদের এই প্রতীকী উদ্যোগ শাস্তিপূর্ণ ছিল। আমরা এই দাবি যোক্তিক বলে মনে করি। কিন্তু বিগত দুই-তিন দিন পূর্বে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন একটি ষড়যন্ত্রমূলক কিছু গোষ্ঠির অপতৎপরতায় ভিন্নখাতে চলে যাচ্ছে। যা অত্যন্তউদ্বেগ জনক। এই ঝড়যন্ত্রমূলক তৎপরতা আমাদের সাধারণ নাগরিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই কখনো ন্যায় সঙ্গত আন্দোলন একটি অন্যায় কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্বীকৃতি পেতে পারে না। আমি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে অভিভাবকদের ঘরে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’
রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থাকে ৬টি কোম্পানির আওতায় আনতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন বলে উল্লেখ করে খোকন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন। আগামীকাল (সোমবার) স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে এ নিয়ে একটি বৈঠক হবে।’
মেয়র বলেন, ‘সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা নগরজীবনে দুর্ভোগের অন্যতম কারণ। লাইসেন্সবিহীন ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক ড্রাইভার এবং বাস কন্ডাক্টরদের আচরণে সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে আছে। তাদের এমন আচরণ ও বেপরোয়া বাস চালনায় এই শহরের অগনীত মানুষ ইতোমধ্যে প্রাণ হারিয়েছে। বিগত বছরগুলোতে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনার হার বেড়েছে।’
খোকন বলেন, ‘আমরা দায়িত্বগ্রহণ করার পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য অভিযান করি। যখন অভিযান পরিচালনা করা হয় তখন তারা টার্মিনালে অবস্থান করে। অভিযান শেষ হওয়ার পর আবার একই চিত্র ফিরে আসে। বারবার চেষ্টা করার পরেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে ব্যর্থ হয়েছি।’
মেয়র বলেন, ‘আমাদের যারা জনপ্রতিনিধি রয়েছে তাদের সুষ্পষ্টভাবে দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে স্বস্ব এলাকার জনপ্রতিনিধি, এলাকার মুরুব্বীয়ান ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গদের সাথে নিয়ে রাজপথের এই ঝড়যন্ত্রমূলক তৎপরতা রোধ করার জন্য প্রশাসনকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করবেন। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টারয় নগর জীবনের শৃঙ্খলা ও স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনতে চাই।’
এসময় মেয়রের সঙ্গে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মো. বিলালসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।