সংবাদ সম্মেলনে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা আগামীতে কর্মসূচি নির্ধারণ করবো। আইনের বিষয়ে কোনও ছাড় দেবো না। আইনের পুরোটা আমাদের জানানোও হয়নি। আমাদের বলা হয়েছে সুপারিশ দেওয়ার জন্য। আমরা সুপারিশ দিয়েছিলাম। কিন্তু রাখা হয়নি।’
তিনি বলেন, আমরা বলেছি এই আইনের নাম দিতে হবে ‘সড়ক পরিবহন এবং সড়ক নিরাপত্তা আইন’। এতো কিছু বোঝানো এবং বলার পরও তারা আমাদের কোনও কথা শুনলেন না। সড়ক নিরাপত্তা আইন কেন রাখতে হবে? আপনি একটা অকারেন্স ঘটানোর পর তাকে ফাইন দিলেন, কিন্তু তাতে আমার কি হলো? আমি তো চলে গেলাম। দুর্ঘটনা রোধ করার জন্য যে ব্যবস্থাগুলো নেওয়া দরকার তার কোনও বিধান রাখা হয়নি। আপনি যদি চালককে প্রশিক্ষিত করার দায়িত্ব না নেন তাহলে তাকে শুধু জরিমানা করে কিছু করতে পারবেন না।
চালকদের জন্য একটি ইন্সটিটিউশন তৈরির দাবি জানান ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি বলেন, যদি চলকদের জন্য ইন্সটিটিউশনের সুযোগ তৈরি না করেন তাহলে সে কোন জায়গা থেকে শিখবে? আমরা বলেছি আইনে যেন এটি তৈরির বাধ্যবাধকতা থাকে।
আইনের দণ্ডবিধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দণ্ডবিধিতে আমাদের বলা হয়েছিল কমপক্ষে ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হবে। সর্বোচ্চ যদি ১০ বছর হয় তাহলে সর্বনিন্ম কত? এক দিন? এক ঘণ্টা? এর কোনও ব্যাখ্যা নেই।
ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, সাজার বিষয়ে হাইকোর্টের একটা নির্দেশনা দেওয়া আছে। বলা হয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনার জন্য শাস্তির বিধান সাত বছর এবং যেভাবে বাংলাদেশে দুর্ঘটনা বাড়ছে তাতে এটি আরও বাড়ানো যেতে পারে। এই নির্দেশনা অমান্য করে উনারা সেটাকে রেখেছেন পাঁচ বছর। আমরা এটা মানি না। এখন বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালালে পাঁচ বছর সাজা। তাহলে বাচ্চারা যে আন্দোলনে নামলো, দাবি করলো ঘাকতদের সাজা ফাঁসি। তাদের দাবি কিভাবে মানলো?
ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, আমরা সব সময় একটা পক্ষকে দোষারোপ করে যাচ্ছি। কিন্তু দুর্ঘটনার সঙ্গে অনেকগুলো পক্ষ আছে। সেই পক্ষগুলোকে শাস্তির আওতায় আনার জন্য কোনও নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। আমরা বলেছি চালক শব্দটি বলা যাবে না। তাহলে এটা একটা পক্ষের কাছে চলে যায়। এটা ব্যবহার করতে হবে দায়ী ব্যক্তির। কারণ এর সঙ্গে দায়ী হতে পারে চালক, মালিক, পথচারী বা অন্য কেউ। একজন পথচারীর কারণে যদি দুর্ঘটনা ঘটে তাহলে আপনি চালককে তো দণ্ড দিতে পারেন না। আমরা এই শব্দগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করতে বলেছিলাম।