আগামী ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। এ বছর দিবসকে সামনে রেখে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম ও অন্যান্য সংগঠন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে আছে সেমিনার, মোমবাতি প্রজ্জ্বলন, সমাবেশ, র্যালি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ৬ আগস্ট সোমবার ঢাকার হোটেল সুন্দরবনে আদিবাসী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচির জানান দেয় আদিবাসী ফোরাম।
সংবাদ সম্মেলনে ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং-এর সঞ্চালনায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ফোরামের সভাপতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাসের টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য জান্নাত-ই-ফেরদৌস, আদিবাসী ফোরামের সহ-সাধারণ সম্পাদক ডা. গজেন্দ্রনাথ মাহাতো এবং বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্ক-এর সদস্য সচিব চঞ্চনা চাকমা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দিবসটি উপলক্ষে ৭ আগস্ট মঙ্গলবার দিনব্যাপী বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র (চীন মৈত্রী) মিলনায়তনে আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাস ও আরডিসি’র অনুষ্ঠান হবে। ৮ আগস্ট বুধবার সকালে এএলআরডি ও অন্যান্য সংগঠন মিলিতভাবে আদিবাসী দিবসের মূল সুর নিয়ে সেমিনার আয়োজন করবে সিরডাপ মিলনায়তনে। একইদিন সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গারো স্টুডেন্ট ইউনিয়ন (গাসু)-এর উদ্যোগে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন। আদিবাসী দিবসের দিন সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের মূল অনুষ্ঠান। এতে থাকবে সমাবেশ, র্যালি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল উদ্বোধক এবং তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এছাড়া ৯ আগস্ট মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বাংলা একাডেমিতে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের মধ্যে সকালে ‘আদিবাসীদের জীবন ও অস্তিত্ব’ বিষয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বিকালে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এর বাইরেও দেশের বিভিন্ন জেলায় ও উপজেলায় আদিবাসী দিবস উদযাপন করা হবে। এই জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজশাহী, দিনাজপুর, নাটোর, মাগুরা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, নেত্রকোণা, সিলেট, মৌলভীবাজার, শেরপুর, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, কক্সবাজার প্রভৃতি।
দিবসটি উপলক্ষে আদিবাসীদের জোরপূর্বক দেশান্তরকরণ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধের সংগ্রাম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন আদিবাসী ফেরামের সভাপতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা।
ফোরামের সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা তার মূল বক্তব্যে বলেন, বিশ্বব্যাপী আদিবাসী জনগণ তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়, ভূমির অধিকার, অঞ্চল বা টেরিটরির অধিকার, প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকার ও নাগরিক মর্যাদার স্বীকৃতি চায়। স্বাধীনতার ৪৭ বছরে দেশের ৩০ লক্ষাধিক আদিবাসী জনগণ মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। সম্পূর্ণ এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে আদিবাসী ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনধারাকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। ক্রমাগতভাবে আদিবাসীদের ভূমি অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এক সময় যেসব অঞ্চলে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল, সেখানে পপুলেশন ট্রান্সফারের ফলে আদিবাসী জনগণ নিজ ভূমিতে সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম, গারো পাহাড়, উত্তরবঙ্গ, গাজীপুর, মধুপুর বনাঞ্চল, পটুয়াখালী-বরগুনা, খাসিয়া অঞ্চল সর্বত্র আদিবাসীরা তাদের ঐতিহ্যগত ভূমি হারিয়েছে। আদিবাসীদের মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা তো দূরের কথা, আত্ম-পরিচয় ও নিজস্ব সংস্কৃতি নিয়ে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে।