এদিকে, সরেজমিনে বর্তমান অবস্থা দেখার জন্য রাখাইন সফরেরও কথা রয়েছে প্রতিনিধি দলটির।
রিসেটেলমেন্ট পরিকল্পনা
দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিক চুক্তিতে মিয়ানমার সম্মত হয়েছিল যে, রোহিঙ্গারা তাদের আদি নিবাসে ফিরে যাবে অথবা তাদের পছন্দনীয় জায়গায় তাদের পুনর্বাসন করা হবে। কিন্তু এখনপর্যন্ত এ বিষয়ে তারা পরিস্কার করে তাদের পরিকল্পনা কাউকে জানায়নি। এই প্রসঙ্গে সরকারের আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা তাদের কাছে বারবার জানতে চেয়েছি কিন্তু কোনও সদুত্তর পাইনি।’
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমার মিলিটারি চার শতাধিক গ্রাম পুড়িয়ে দিয়েছে, যেন রোহিঙ্গারা ভয়ে রাখাইন থেকে পালিয়ে যায়। এই প্রসঙ্গে সরকারের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট রিসেটেলমেন্ট প্ল্যান জানতে চাইবো।’
মৌলিক অধিকার
বাংলাদেশ মনে করে, টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার দেওয়াটা জরুরি এবং মিয়ানমার এটি দিতে সম্মত হয়েছে। তবে, এখন পর্যন্ত লিখিতভাবে রোহিঙ্গারা কী কী মৌলিক সুবিধা উপভোগ করবে, তা বলা হয়নি।
জানতে চাইলে সরকারের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের মধ্যে যখন আলোচনা হয়, তখন মিয়ানমার তাদের মৌলিক অধিকার দেওয়ার বিষযে মৌখিকভাবে বলে কিন্তু কোনো কিছু লিখিতভাবে দেয় না।’ তিনি বলেন, ‘এ সংক্রান্ত বিষয়ে তারা লিখিত কোনও নির্দেশনা দেবে কিনা, সে বিষয়ে এবারের বৈঠকে আমরা তাদের কাছে জানতে চাইবো।’
উল্লেখ্য, রোহিঙ্গারা ১৯৬২ সাল থেকে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমার মিলিটারি কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করেছে, নারীদের ওপর যৌন নির্যাতন চালিয়েছে। তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। গত এক বছরে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশের পালিয়ে এসেছে। এছাড়া এর আগে থেকে চার লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছিল।