মিয়ানমার: যে গণতন্ত্রে মানবাধিকার নেই






সংবাদ সম্মেলনে অং সান সু চি (ছবি: রয়টার্স)

মিয়ানমারে সু চির নেতৃত্বে ‘গণতন্ত্রের উত্তরণ’ ঘটছে—এই অজুহাতে সমর্থন জানিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো বড় ভুল করছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। কারণ, সু চির সরকার মানবাধিকারে বিশ্বাস করে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের গণতন্ত্রের মিথ্যা বেদিতে মানবাধিকারের নীতিকে বিসর্জন দিচ্ছে।
মিয়ানমারের রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বী মং জার্নি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “মিয়ানমারের সু চি ও মিলিটারির হাইব্রিড সরকারকে চিহ্নিত করতে ‘ভঙ্গুর গণতন্ত্র’ বা ‘গণতন্ত্রের উত্তরণ’ ইত্যাদি শব্দ শুধুমাত্র মোহগ্রস্ত কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ, গবেষক ও সাংবাদিকরা ব্যবহার করে থাকেন।”
তিনি বলেন, ‘যে দেশ তার দেশের সংখ্যালঘু ধর্মীয় জনগোষ্ঠী, যেমন- রোহিঙ্গা বা কাচিনের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালাতে পারে তাকে গণতান্ত্রিক দেশ বলা যেতে পারে না।’
রাখাইনের আগুনে পোড়া একটি গ্রাম (ছবি: রয়টার্স)

মিয়ানমারের বাংলাদেশের সাবেক ডিফেন্স অ্যাটাশে মো. শহীদুল হক বলেন, ‘পশ্চিমা দেশগুলো মিয়ানমারকে গণতন্ত্রের অজুহাতে সমর্থন দিয়ে বড় ভুল করছে।’
মিয়ানমারে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘সেখানে এখনও মিলিটারি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে এবং তারা সু চিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন।’
যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমারা মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তবে সু চি নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার পরে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেন।
মো. শহীদুল হক মনে করেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশের অত্যন্ত জরুরি বিষয় হচ্ছে মাবনাধিকার, যা মিয়ানমার প্রতিদিন লঙ্ঘন করছে।
মিয়ানমারে কর্মরত ছিলেন এমন আরেকজন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘১৯৬২ সাল থেকে রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে মিয়ানমার।’
আশ্রয়ের খোঁজে বাংলাদেশে ছুটে আসছে রোহিঙ্গারা (ছবি: রয়টার্স)

তিনি বলেন, ১৯৭৩ সালে মিয়ানমারের সংবিধান প্রথম তাদের (রোহিঙ্গাদের) অবৈধ করার প্রক্রিয়া শুরু করে এবং এর ফলে ১৯৭৮ সালে প্রথম রোহিঙ্গা ঢল বাংলাদেশে আসে। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন তাদের নাগরিক হিসেবে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে এবং ১৯৯২ সালে আবার রোহিঙ্গারা দলে দলে পালিয়ে আসে।
আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার রক্ষায় জাতিসংঘ ব্যর্থ হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘যখন আদমশুমারি হয় তখন রোহিঙ্গাদের বাদ দেওয়ার মিয়ানমারের দাবি জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) মেনে নিয়েছিল। অন্যদিকে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) রাখাইনে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে, কিন্তু রোহিঙ্গাদের মধ্যে যারা প্রকৃত অর্থে ক্ষতিগ্রস্ত তাদের সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে দিয়েছে।’