ঢাকা মহানগরীতে সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে কমিটি

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারঢাকা মহানগরীতে সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকনকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার (২৭ আগস্ট) সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বৈঠকে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন, পুলিশের আইজি মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, ঢাকা উত্তরের প্যানেল মেয়র, পরিবহন মালিক সমিতির নেতা খন্দকার এনায়েত উল্যাহ,সড়ক পরিবহন সচিব নজরুল ইসলাম, শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব আফরোজা খান, বিআরটিএ’র চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অসুস্থতার কারণে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে থাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সভায় ছিলেন না।

সভা শেষে এক প্রেসব্রিফিংয়ে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের জানান, দেশের সব সড়ক-মহাসড়কে ইজিবাইক, লেগুনা, নসিমন, করিমন, অটোরিকশাসহ সমস্ত ছোট যানবাহন চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কাজ করবে রোড ট্রান্সপোর্ট কমিটি (আরটিসি)। যে সমস্ত জেলায় আরটিসি নেই, সে সমস্ত জেলায় অতিসত্ত্বর আরটিসি গঠন ও নিয়মিত সভা করে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। এজন্য ডিসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সড়ক-মহাসড়কে চলমান বাস-ট্রাকসহ সব ধরনের যানবাহনে বাম্পার, হুক ও অ্যাঙ্গেল অপসারণ করতে হবে। ইতোমধ্যে ৯০ শতাংশ অপসারণ করা হয়েছে। বাকি ১০ শতাংশও অপসারণ করা হবে। জাতীয় মহাসড়কগুলোতে ইজিবাইকসহ ছোট-ছোট যানবাহন নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা তৈরি করতে সড়ক পরিহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবদুল মালেককে প্রধান করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বররের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। বিআরটিএর চলমান সেবা কার্যক্রম সকাল ৯-রাত ৯টা (শুক্রবার ব্যতীত)অব্যাহত থাকবে।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন আট জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়ে ঢাকায় বিআরটেএতে ম্যাজিস্ট্রেট তিন জনের স্থলে ১১জন করা হয়েছে। প্রতিদিন ১১টি মোবাইলকোর্ট চালানো হবে। জাতীয় মহাসড়কগুলোতে কোনও অযান্ত্রিক যানবাহন চলবে না। ইজিবাইক, লেগুনা, নসিমন, করিমন, অটোরিকশার খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানির অনুমতি না দিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধপত্র পাঠানো হবে। দেশের মহাসড়কগুলোর কুমিল্লা, সিরাজগঞ্জ ও গাইবান্ধাসহ পাঁচটি স্থানে  চালক ও হেলপারদের জন্য বিশ্রামাঘার করা হবে। কোনও গাড়িতে ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ড, হুটার, স্টিাকার ও মনোগ্রাম লাগানো চলবে না। হাইওয়েতে সর্বোচ্চ গতিসীমা থাকবে ৮০ কিলোমিটার।  এর বেশি থাকবে না। এজন্য  যন্ত্রপাতি আমদানি ও  হাইওয়ে পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। রাজধানীতে গরিব চেহারার গাড়িগুলোর বডির রং আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরে মধ্যে পরিবর্তন করতে হবে ।’

ওবায়দুল কাদের বলেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশের ২২টি মহাসড়কে ইজিবাইক, নসিমন, করিমন ও অটোরিকশা দেখাতে পারবেন না না। সেখানে এসব মুক্ত করা হয়েছে। ’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এই বছর ঈদের সময় যে তিনটি বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। তিনটিই হাইওয়েতে এবং প্রত্যেকটি হাইওয়েতেই ডিভাইডার ছিল। কাজেই সড়কগুলোতে ডিভাইডার দিলেই দুর্ঘটনা কমে যাবে, তা সত্য নয়।’