সোমবার (২৭ আগস্ট) সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভাশেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সড়ক-মহাসড়কে চলমান বাস-ট্রাকসহ সব ধরনের যানবাহনের বাম্পার, হুক ও অ্যাঙ্গেল অপসারণ করতে হবে। ইতোমধ্যে ৯০ শতাংশ অপসারণ করা হয়েছে। বাকি ১০ শতাংশও অপসারণ করা হবে। জাতীয় মহাসড়কগুলোতে ইজিবাইকসহ ছোট ছোট যানবাহন নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা তৈরি করতে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবদুল মালেককে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া বিআরটিএ‘র চলমান সেবা কার্যক্রম সকাল ৯-রাত ৯টা (শুক্রবার ব্যতীত) অব্যাহত থাকবে।’
সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন আটজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়ে ঢাকায় বিআরটিএ-তে ম্যাজিস্ট্রেট তিনজনের স্থলে ১১ জন করা হয়েছে। এখন থেকে প্রতিদিন ১১টি মোবাইল কোর্ট চালানো হবে। ইজিবাইক, লেগুনা, নসিমন, করিমন, অটোরিকশার খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানির অনুমতি না দিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধপত্র পাঠানো হবে। দেশের মহাসড়কগুলোর মধ্যে কুমিল্লা, সিরাজগঞ্জ ও গাইবান্ধাসহ পাঁচটি স্থানে চালক ও হেলপারদের জন্য বিশ্রামাগার করা হবে। কোনও গাড়িতে ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ড, হুটার, স্টিকার ও মনোগ্রাম লাগানো চলবে না। হাইওয়েতে সর্বোচ্চ গতিসীমা থাকবে ৮০ কিলোমিটার। এর বেশি থাকবে না। এই কাজের জন্য যন্ত্রপাতি আমদানি ও হাইওয়ে পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। রাজধানীতে গরিবি চেহারার গাড়িগুলোর বডির রং আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরে মধ্যে পরিবর্তন করতে হবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশের ২২টি মহাসড়কে ইজিবাইক, নসিমন, করিমন ও অটোরিকশা দেখাতে পারবেন না। সেখানে এসব মুক্ত করা হয়েছে। ’
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এই বছর ঈদের সময় যে তিনটি বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। তিনটিই হাইওয়েতে এবং প্রত্যেকটি হাইওয়েতেই ডিভাইডার ছিল। কাজেই সড়কগুলোতে ডিভাইডার দিলেই দুর্ঘটনা কমে যাবে, তা সত্য নয়।’
সভায় ঢাকা মহানগরীতে সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকনকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়।
বৈঠকে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন, পুলিশের আইজি মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, ঢাকা উত্তরের প্যানেল মেয়র, পরিবহন মালিক সমিতির নেতা খন্দকার এনায়েত উল্যাহ, সড়ক পরিবহন সচিব নজরুল ইসলাম, শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব আফরোজা খান, বিআরটিএ চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অসুস্থতার কারণে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে থাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সভায় ছিলেন না।
আরও পড়ুন: ঢাকা মহানগরীতে সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে কমিটি