জানা গেছে, জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস মিয়ারমারের সর্বশেষ পরিস্থিতি বিষয়ে কাউন্সিলের সদস্যদের জানাবেন। এছাড়া মিয়ানমারের প্রতিনিধিও বক্তব্য রাখার সুযোগ পাবেন।
এই প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘এ বছরের শুরুতে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দল যখন বাংলাদেশ সফরে এসেছিল, তখন আমাদের অবস্থান তাদের কাছে ব্যাখ্যা করেছিলাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘ওই সময় আমরা তাদের বলেছি যে, আমরা চাই, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের জন্য নিরাপত্তা পদক্ষেপ দৃঢ় পদক্ষেপ নেবে। মিয়ানমারের ওপর প্রয়োজনীয় অবরোধ আরোপ করবে। রাখাইন কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন করার জন্য চাপ প্রয়োগ করবে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেবে।’
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযান শুরুর পর প্রায় ২৫ হাজার রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। এছাড়া কয়েকহাজার নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। ৪০০ গ্রাম পুড়িয়ে দিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। ওই ঘটনার পর সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।
সম্প্রতি জাতিসংঘের একটি রিপোর্টে বলেছে, মিয়ানমারের মিলিটারির ‘গণহত্যা চালানোর মানসিকতা’ ছিল।
এই প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে চরম অসহযোগিতা করছে মিয়ানমার।’
মিয়ানমার অপপ্রচার চালাচ্ছে যে, বাংলাদেশের কারণে প্রত্যাবাসন হচ্ছে না। প্রকৃতপক্ষে জাতিসংঘসহ সবাই বলছে, রাখাইনে প্রত্যাবাসনের সহায়ক পরিবেশ তৈরি করছে না মিয়ানমার।
সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী রাখাইন সফর করে ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন দেখে এসেছেন। তিনি একটি গ্রামে দেখেছেন, যেখানে ১৪৮টি ঘর তৈরি করা হয়েছে। আরেকটি গ্রামে ২২ ঘর তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু মিয়ানমার মিলিটারি ৪০০ গ্রামকে পুড়িয়ে দিয়েছে।
প্রত্যাবাসন শুরু হলে রোহিঙ্গারা কোথায় থাকবে, সে বিষয়ে মিয়ানমার পরিষ্কার করে কিছু বলছে না বলে জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা।