নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটকের পাশে গণপূর্তের একটি পুরনো ভবনে ঢাকার দ্রুত বিচার আদালত-১ এর কার্যক্রম চলছে। বুধবার (২৯ আগস্ট) দুপুর ১২টায় আদালতে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন আগামী ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আদালতের কার্যক্রম মুলতবি করেন। ওইদিন বাবরের পক্ষে আইনগত রেফারেন্সগুলো তুলে ধরবেন তার আইনজীবীরা।
বাবরের আইনজীবী নজরুল ইসলাম আদালতকে বলেন, ‘এ মামলায় বাবরের বিরুদ্ধে কোনও এভিডেন্স পাচ্ছি না রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনার চেষ্টা করেছেন সেগুলোর কোনও ভিত্তি নাই। এসব অভিযোগ অগ্রহণযোগ্য। অন্যদের অপরাধ হাইজ্যাক করে বাবরের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ মামলাটি সর্বশেষ তদন্ত করেছেন আবদুল কাহার আকন্দ। তিনি পরিচ্ছন্ন হাতে তদন্ত করেননি। কারণ তিনি পরিচ্ছন্ন লোক নন। বিতর্কিত লোক। রাজনৈতিকভাবে একটি পক্ষের লোক। তাই রাজনৈতিকভাবে তাকে ও তার দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে বাবরকে আসামি করা হয়েছে। একটি রাজনৈতিক সরকারের সময়ে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের নেতার বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। অথচ সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন। তার গ্রেফতারের পর ফজলুল কবির যে চার্জশিট দিয়েছিলেন সেখানে বাবরের নাম ছিল না।’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, ২১ আগস্টের মতো ঘটনার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বাবর। রাষ্ট্রীয় আনুকূল্য দিয়ে অপরাধীদের পালাতে ও আড়াল করতে সহায়তা করেছেন। হাওয়া ভবন ধানমন্ডির আবদুস সালাম পিন্টুর বাসভবনে তারেক রহমানসহ অন্যান্যদের নিয়ে ষড়যন্ত্র করেছেন। বর্বরোচিত এ ঘটনায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি দায় এড়াতে পারেন না। রাষ্ট্রপক্ষ এসব আদালতে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি খালাস পেতে পারেন না। আমরা তার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করি।
রাষ্ট্রপক্ষের আরেক আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল, দ্রুত বিচার আদালত-১ এর বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবু আবদুল্লাহ ভুঁইয়া, আইনজীবি আকরাম উদ্দিন শ্যামলসহ অন্যান্যরা।
প্রসঙ্গত, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর ২০০৪ সালের ২২ আগস্ট মতিঝিল থানার এসআই শরীফ ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে একটি মামলা (নং-৯৭) দায়ের করেন। ২০০৮ সালের ৯ জুন হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনকে অভিযুক্ত করে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে সিএমএম আদালতে দু’টি অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন সিআইডির সিনিয়র এএসপি ফজলুল কবির। ওই বছরই মামলা দু’টির কার্যক্রম দ্রুত বিচার আদালত-১ এ স্থানাস্তর করা হয়। এ আদালতে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের ২৯/১১ (হত্যা) ও ৩০/১১ (বিস্ফোরক) মামলা দু’টির বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
৬১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের পর ২০০৯ সালের ২৫ জুন এ মামলার অধিকতর তদন্তের আবেদন জানায় রাষ্ট্রপক্ষ। ওই বছরের ৩ আগস্ট আদালত অধিকতর তদন্তের আবেদন মঞ্জুর করেন। পরে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ ও আবদুস সালাম পিন্টুসহ আরও ৩০জনকে অভিযুক্ত করে ২০১১ সালের ২ জুলাই আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন আবদুল কাহার আকন্দ। অধিকতর তদন্তে গ্রেনেড হামলার সঙ্গে জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) পাশাপাশি হাওয়া ভবনের সংশ্লিষ্টতাও খুঁজে পান তিনি।