বৃহস্পতিবার (৩০ আগস্ট) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য হুইপ আতিউর রহমান আতিক, শিবলী সাদিক এবং নাসিমা ফেরদৌসী অংশ নেন।
কমিটি মনে করে, কয়লা চুরির বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ হলেও কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলার দায় এড়ানোর কোনও সুযোগ নেই। তাদের অবহেলার কারণে কয়লা মজুতের বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য এসেছে।
কয়লা মজুতে ‘সিস্টেম লস’ হয়ে থাকলে সেটা আগে থেকে উল্লেখ করা হয়নি কেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কমিটি।
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া খনি থেকে কয়লা উধাও হওয়ার বিষয়টি নিয়ে গত জুলাইয়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। কয়লার ঘাটতিতে বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদনও বন্ধ হয় যায়। বড়পুকুরিয়া খনির কয়লা দিয়েই পাশের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চলতো।
কয়লা উধাওয়ের ঘটনায় গত ২৪ জুলাই খনির বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ১৯ জনকে আসামি করে দুর্নীতি দমন আইনে মামলা করেন কোম্পানির ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আনিছুর রহমান।
প্রাথমিক তদন্তে এক লাখ ৪৪ হাজার টন কয়লা উধাও হয়ে যাওয়ার প্রমাণ পেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন মামলার ১৯ আসামিসহ পেট্রোবাংলার ৩২ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে।
বৃহস্পতিবার (৩০ আগস্ট) সংসদীয় কমিটির বৈঠকে কয়লা উধাওয়ের ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কয়লা উধাও হয়নি উল্লেখ করে সিস্টেম লস হয়েছে বলে দাবি করেন। আন্তর্জাতিক মান অনুসারে কয়লা উত্তোলনহ অন্যান্য পর্যায়ে দুই থেকে ১০ শতাংশ সিস্টেম লস হয় বলে দাবি করা হয়।
এ বিষয়ে বৈঠকের পর কমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তারা সিস্টেম লস বলে ব্যাখ্যা দিয়েছে। তবে আমরা এতে সন্তুষ্ট নই। তারা এখন সিস্টেম লসের কথা বলছে। কিন্তু ওই বিষয়টি জানাজানির হওয়ার দুদিন আগেও তারা এক লাখ ৪৪ হাজার মেট্রিক টন মজুতের কথা বলেছিল। সিস্টেম লস যদি মেনেও নিই, তাহলে তারা কেন ভুল তথ্য দিলো। তারা বছরের পর বছর কীভাবে এই ভুল তথ্যের ওপর চললো। বিষয়টি আগে কেন তাদের নজরে এলো না। কাজেই প্রমাণিত যে এটা তাদের দায়িত্বে অবহেলা। আর এ কারণেও তাদের শাস্তি হওয়া দরকার।’
তিনি বলেন, ‘দুর্নীতির বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ। কিন্তু এটা প্রমাণিত যে কর্মকর্তারা দায়িত্বে অবহেলা করেছেন এবং এটা অপরাধ হিসেবে গণ্য না হওয়ার কারণ নেই।’
এদিকে সংসদীয় কমিটির কার্যপত্র থেকে জানা যায়, বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০০৫ সাল থেকে খনিতে কয়লা উৎপাদনের পর উন্মুক্ত স্থানে মজুত রাখায় গ্রীষ্মকালে প্রচণ্ড গরমে কয়লায় আগুন ধরে যাওয়া, পানি দিয়ে আগুন নেভানো, ঝড়ো হাওয়ায় কয়লা উড়ে যাওয়া, ইত্যাদি কারণে প্রতি বছর কিছু ক্ষতি হয়। বছরভিত্তিক কয়লার মোট হিসাবের সময় তা সমন্বয় করা হয়নি। প্রকৃতপক্ষে ২০০৫ সাল হতে এসব কারণে কোনও ক্ষতি হয়েছে কিনা, হলে পরিমাণ তার কত, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পেট্রোবাংলা থেকে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়।
কার্যপত্রে বলা হয়, কোম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালককে কয়লা মজুতের বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার জন্য কারণ দর্শানো হয়েছে।
এদিকে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে গ্যাস অনুসন্ধান ও কূপ খননের বিষয়ে বাপেক্সকে অধিকতর শক্তিশালী ও সক্ষম করে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। এছাড়া, কমিটি এলএনজি আমদানির পরিমাণ ও শিল্প খাতে যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুপারিশ করে।