যুক্তরাষ্ট্র ডব্লিউটিও থেকে সরে গেলে সমস্যায় পড়তে পারে বাংলাদেশ

ডব্লিউটিওবিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা ঘটলে বাংলাদেশসহ অন্যান্য ছোট অর্থনীতির দেশগুলো সমস্যায় পড়তে পারে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আইনি কাঠামোর অধীনে বহু পক্ষীয় বাণিজ্যিক ব্যবস্থা বাংলাদেশসহ ছোট দেশগুলোর জন্য ভালো।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এই ব্যবস্থার (ডব্লিউটিও) অধীনে বিশেষ কিছু সুবিধা ভোগ করে থাকি। যদি বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা না থাকে, তবে ধনী ও শক্তিশালী দেশগুলো মেধাস্বত্ব বা ট্রেড ইউনিয়ন বা অন্য ইস্যুতে বাংলাদেশের ওপরে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।’

মোস্তাফিজুর রহমান আরও  বলেন, ‘ট্রাম্পের এই হুমকি চাপ প্রয়োগ করার কৌশল মাত্র।তারা এই ব্যবস্থা থেকে বের হবে না।’

একই ধরনের মত প্রকাশ করে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান মনসুর বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ডব্লিউটিও-তে সংস্কার আনার চেষ্টা করছে এবং এজন্য তারা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নসহ অন্যদের সঙ্গে দর কষাকষি করছে। আমার ধারণা, তারা এই ব্যবস্থা থেকে বের হবে না।’

তিনি বলেন, ‘ তবে বাংলাদেশকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক ব্যবস্থার জন্য তৈরি থাকতে হবে। কারণ, কয়েক বছর পরে আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হলে বাড়তি সুবিধা আর পাবো না। তখন আমাদের দ্বিপক্ষীয়ভাবে এই সুবিধাগুলো আদায় করতে হবে। আমাদের এখন থেকেই দর কষাকষির জন্য তৈরি হতে হবে এবং এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ স্টাডি থাকতে হবে।’

ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন— ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সংস্থাটির আচরণের পরিবর্তন না ঘটলে, ওয়াশিংটন সেখান থেকে সরে দাঁড়াবে।’

প্রসঙ্গত, বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য বিধি-বিধান তৈরি ও বিভিন্ন দেশের মধ্যে বিবাদ মেটানোর লক্ষ্যে ১৯৯৪ সালে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) প্রতিষ্ঠা করা হয়। তবে সংরক্ষণবাদ নীতিতে বিশ্বাসী ট্রাম্পের অভিযোগ— ‘ডব্লিউটিও যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে বাজে দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে থাকে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে থেকেই ডব্লিউটিও’র বিরোধিতা করে আসছেন ট্রাম্প।নির্বাচিত হওয়ার পরও তিনি তার আগের সুর বজায় রেখেছেন।

গত বছর ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘সবাইকে লাভবান করতে ডব্লিউটিও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু আমরা... আমরা মামলায় হারি। ডব্লিউটিও-তে প্রায় সব মামলায় হেরে যাই।’ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কয়েকটি দেশের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধে মেতেছে যুক্তরাষ্ট্র। সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তুলেছে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ‘বাণিজ্যযুদ্ধ’, যেখানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুটি অর্থনৈতিক শক্তি বিশ্ববাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একে অন্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

এর মধ্যেই ব্লুমবার্গকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডব্লিউটিও ছাড়ার হুমকি দিলেন ট্রাম্প।

সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘তারা (ডব্লিউটিও) যদি ঠিক না হয়, তবে আমি সরে যাবো।’

ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা প্রত্যাহারের হুমকির পর মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাণিজ্য নীতি আর বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মুক্তবাজার নীতির মধ্যকার আদর্শিক দ্বন্দ্ব আরও পরিষ্কার হলো।