প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্বায়ত্বশাসিত। এসব প্রতিষ্ঠান নিজেদের উপার্জনে চলবে তারও বিধান রয়েছে। কিন্তু আমাদের এখানকার যারা শিক্ষার্থী তাদের এটা ভাবা উচিত যে, পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে কম খরচে উচ্চশিক্ষা বাংলাদেশে দেওয়া হয়ে থাকে। প্রায় শতভাগ খরচই কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে। এটা পৃথিবীর কোনও দেশে রয়েছে বলে আমার জানা নেই। তিনি বলেন, ‘কাজেই এর মর্যাদাও শিক্ষার্থীদের দিতে হবে এবং বিশৃঙ্খলা কখনও গ্রহণযোগ্য নয়। সবাইকে একটা নিয়ম মেনে চলতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতে হলে সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়ম মেনে সেভাবেই আচরণ করতে হবে। এটাই জাতি আশা করে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা উচ্চ শিক্ষার প্রতি জোর দিচ্ছি। শিক্ষাকে বহুমুখী ও বিস্তৃত করার চেষ্টা করছি। যাতে আমাদের শিক্ষার্থীরা এখান থেকে শিক্ষা অর্জনের পর বিভিন্ন দেশে গিয়ে আরও উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেন।’ তিনি বলেন, ‘এজন্য দেশে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়, আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়, মেরিটাইম, ভেটেরিনারে অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্সেস, ফ্যশন ডিজাইন এবং ইসলামিসহ আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি।’
সরকার প্রধান বলেন, ‘আমরা প্রথমবার ক্ষমতায় এসেই দেশের প্রথম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় করেছিলাম। এবার আরও দুটি করেছি রাজশাহী ও চট্টগ্রামে। সিলেটেও একটা করে দিচ্ছি। পর্যায়ক্রমে আমরা প্রতিটি বিভাগীয় শহরে একটি করে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় করে দেব।’ তিনি বলেন, ‘দেশে একটিমাত্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। এখন সরকারি-বেসরকারি খাতে অনেকগুলো কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় করেছি।’
বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ ট্রাস্ট করে তাঁর সরকার গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গবেষণা ছাড়া কখনও উন্নত হওয়া যায় না। আজকে বাংলাদেশ খাদ্যে যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে বা কৃষিতে যে বিপ্লব, তা গবেষণা ছাড়া হয়নি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট তৈরি করছি। সেখানে দক্ষ জনগোষ্ঠী দরকার। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে আমরা মহাকাশ জয় করেছি, সেটাও অব্যাহত রাখা দরকার। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট আমরা মহাকাশে পাঠিয়েছি। এরপর বঙ্গবন্ধু-২, বঙ্গবন্ধু-৩ পাঠাব। তখনও আমাদের দক্ষ জনগোষ্ঠী দরকার হবে।’ তিনি বলেন, ‘সেদিকে লক্ষ্য রেখেই তাঁর সরকার শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং উন্নত করার উদ্যোগ নিয়েছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা চাই সব দিক থেকে আমাদের ছেলে-মেয়েদের জীবনমান উন্নত হোক, তারা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাক। প্রজন্মের পর প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশকে গড়ে তুলে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।’
শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের ব্যয়কে বিনিয়োগ হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষায় যে খরচ আমরা করি সেটা ব্যয় নয়, আমার দৃষ্টিতে বিনিয়োগ। যা আমাদের দেশও জাতি গঠনে কাজে লাগবে এবং এ থেকে দেশের মানুষ উপকৃত হবে। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থী নিজেদেরকে উপযুক্তভাবে করে গড়ে তুলতে হবে।’ তিনি বলেন ‘আর সেই শিক্ষাটা শুধুমাত্র কেতাবি শিক্ষা নয়, জীবনমানের উন্নয়নের জন্য শিক্ষা দিতে হবে। আর শিক্ষার্থীরা যে শিক্ষাটা গ্রহণ করবে তার সুফল যেন আমাদের সাধারণ মানুষ পায় সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।’
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ সামাদ, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরিন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দীন, রোকেয়া হলের প্রাধাক্ষ্য ড. জিনাত হুদাও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, জাতীয় অধ্যাপকবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। (সূত্র : বাসস)