তিনি বলেন, ‘এ মানসিকতা পরিবর্তনের জন্য পরিবার থেকেই কাজ করতে হবে। আমরা যদি আমাদের ছেলে সন্তানদেরকে নারীর প্রতি সম্মান দেখাতে শেখাই এবং পুরুষরা যদি নারীর প্রতি সহিংসতা থেকে বিরত থাকেন, তাহলে সমাজ থেকে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করা সম্ভব হবে।’
বৃহস্পতিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ‘নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৮-২০৩০’ প্রণয়ন বিষয়ক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তা ভাবনার পরিবর্তনের জন্য ব্যাপক জনসচেতনতামূলক প্রচার ও প্রসার ঘটাতে হবে। যাতে করে একটি শিশু ও নারী আর কোনও সহিংসতা কিংবা নির্যাতনের শিকার না হয়।’
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন ও পরিকল্পনা) মাহমুদা শারমিন বেনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন— মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের মহাপরিচালক কাজী রওশন আরা। অনুষ্ঠানে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনার খসড়া পাঠ করেন প্রকল্প পরিচালক ড.আবুল হোসেন।
অধিদফতরের মহাপরিচালক কাজী রওশন আরা বলেন, ‘কর্মস্থল ও গণপরিবহনে যৌন হয়রানি নারীর ক্ষমতায়নের প্রধান অন্তরায়। কর্মস্থলে যদি নারীরা যৌন নির্যাতনের শিকার হন এবং নিরাপদ পরিবেশ না পান, তাহলে নারীর উন্নয়ন চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। এর ফলে নারীরা হতাশাগ্রস্ত এবং কর্মবিমুখ হয়ে পড়বেন। তাছাড়া, গণপরিবহনে যৌন নির্যাতনের শিকার একজন নারী নিজের আত্মরক্ষা করবেন, নাকি সমাজের উন্নয়ন ঘটাবেন।’
সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদা শারমিন বেনু বলেন, ‘কর্মপরিকল্পনাটি যুগোপযোগী করার জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মতবিনিময় করা হয়েছে এবং জাতীয় পর্যায়ের সব স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে। কর্মপরিকল্পনাটিতে জেলা ও উপজেলা পর্যায় থেকে বেশকিছু প্রস্তাব উঠে এসেছে। প্রস্তাবনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— শিশুদের গৃহকর্মে নিয়োজিত না করা, গণপরিবহনের মালিক, ড্রাউভার ও শ্রমিকের আচরণ কেমন হবে তার একটি নীতিমালা তৈরি করা, প্রতিটি গাড়িতে জিপিএস ট্র্যাকিং এর সিস্টেম চালু করা, ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে জেলা প্রশাসনের আওতায় মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা, অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহারে বয়সসীমা নির্ধারণ করা, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন, যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ঋণ প্রদান করে আর্থসামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখা এবং জেলা তথ্য অফিসে নির্যাতন প্রতিরোধমূলক ছবি ও গানের ভিডিও প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা।