রমা চৌধুরীর মৃত্যুতে মন্ত্রিপরিষদে শোক

রমা চৌধুরী (ছবি-সংগৃহীত)একাত্তরের জননী খ্যাত মুক্তিযোদ্ধা রমা চৌধুরীর মৃত্যুতে মন্ত্রিপরিষদ শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করে। সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিসভায় এই শোক জানানো হয়। তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিপরিষদের সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সভা শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার সম্মেলন কক্ষে প্রেসব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ কথা জানান।

৩ সেপ্টেম্বর ভোর পৌনে ৫টায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রমা চৌধুরী মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। গল ব্লাডারে পাথর, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে এ বছরের ১৫ জানুয়ারি তিনি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর থেকে সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন।

তার গ্রামের বাড়ি বোয়ালখালী পোপাদিয়া গ্রামে।

১৯৩৬ সালের ১৪ অক্টোবর চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন রমা চৌধুরী। ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ১৩ মে তিন শিশু সন্তান নিয়ে বোয়ালখালীর পোপাদিয়ার গ্রামের বাড়িতেই ছিলেন রমা চৌধুরী। ওই সময় এলাকার রাজাকারদের সহায়তায় পাকিস্তানি বাহিনী রমা চৌধুরীর বাড়িতে হানা দেয়, এসময় তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানোর পর তাদের বাড়ি জ্বালিয়ে দেয় হানাদাররা। আগুনে পুড়ে ওই দিন তার দুই ছেলে সাগর ও টগর মারা যান। এরপর থেকে মৃত্যুর আগপর্যন্ত জুতা পরেননি।

‘একাত্তরের জননী’, ‘এক হাজার এক দিন যাপনের পদ্য’ এবং ‘ভাব বৈচিত্র্যে রবীন্দ্রনাথ’সহ ১৮টি বই লিখেছেন রমা চৌধুরী। বই বিক্রির টাকা দিয়ে চলতো তার পরিবার। পাশাপাশি বই বিক্রির টাকা দিয়ে একটি অনাথআশ্রম খোলার ইচ্ছেও ছিল তার। 

আরও খবর: 

মোটরসাইকেল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা অনুমোদন
বাংলাদেশ শিশু একাডেমি আইন চূড়ান্ত অনুমোদন