বাজারে কৃষিপণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিতে একবছরের জেল ও একলাখ জরিমানার বিধান রেখে কৃষি বিপণন বিল-২০১৮ সংসদে তোলা হয়েছে। সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বিলটি সংসদে তোলেন। পরে তা পরীক্ষা করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, লাইসেন্স ছাড়া প্রজ্ঞাপিত বাজারে বিপণন, লাইসেন্স ছাড়া গুদাম ও হিমাগার পরিচালনা করলে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
এছাড়া, অতিরিক্ত চার্জ আদায়, কর্মচারীকে বাধা, কৃষিপণ্যের পাইকারি ও খুচরা বিক্রয় মূল্য প্রদর্শন না করলে, কৃষিপণ্যে ক্ষতিকারক রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করলে, ওজনে কম দিলে অপরাধ হবে বলে প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে।
এসব অপরাধের জন্য একবছরের জেল ও একলাখ জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। একই অপরাধ পুনরায় করলে দ্বিগুণ দণ্ড হবে।
এ আইনের অধীনের অপরাধগুলোর জন্য মোবাইল কোর্ট দণ্ড দিতে পারবে বলে প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে।
১৯৫৯, ১৯৬৪ ও ১৯৮৫ সালে বিভিন্ন সময় কৃষি বাজার ব্যবস্থাপনা, পণ্য ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে আইন করা হয়। এসব আইন প্রয়োজনীয় সংশোধন করে বিলটি আনা হয়েছে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘কৃষকের উৎপাদিত কৃষিপণ্যের উপযুক্ত মূল্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনার সম্প্রসারণ, কৃষি ব্যবসার উন্নয়ন, কৃষিপণ্য উৎপাদন ও বিপণন কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে গতিশীলতার আনতে এবং দেশের কৃষিজ অর্থনীতি শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে বিলটি আনা হয়েছে।’
‘জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ বিল উত্থাপন
দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির চলমান প্রক্রিয়া আরও বেগবান করতে ‘জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল-২০১৮’’ সংসদে উত্থাপন করেন সংসদ কাজে প্রধামন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। পরে তা কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
প্রস্তাবিত ‘জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে কাজ করবে।
একজন নির্বাহী চেয়ারম্যান ও চারজন সদস্য সমন্বয়ে এই কর্তৃপক্ষ গঠন করা হবে। চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সরকার নিয়োগ দেবে, চাকরির মেয়াদ ও শর্ত সরকার নির্ধারণ করবে।
এই কর্তৃপক্ষ জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতি ও কৌশল, কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করাসহ ১০টি কাজ করবে। পরিচালনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ৩০ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ে কমিটি থাকবে।
‘প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট’ বিল উত্থাপন
এদিকে মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ ‘প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট বিল-২০১৮ উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে একসপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
সাভারের বিএলআরআই, লাইভস্টক রিসার্চ ইনন্সিটিউট ১৯৮৪ সালের একটি অর্ডিনেন্সের মাধ্যমে চলছে, সামরিক আমলের অর্ডিনেন্সগুলো আইনে রূপান্তর করতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনায় এ আইন করা হয়েছে। ১৯৯৬ সালে আইনটি একবার সংশোধন করা হয়।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘নতুন নতুন প্রযুক্তি ও জ্ঞান উদ্ভাবনের জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটকে আরও সক্রিয় ও সক্ষম করা প্রয়োজন।’