সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুলতানা কামাল বলেন, ‘দেশে যারা মানবাধিকার নিয়ে কাজ করছেন, তারা এখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। তাদের হুমকি ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। একদিকে রাষ্ট্র নিজেও মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করছে না, অন্যদিকে যারা এসব কাজ করছে, তাদের পাশে গিয়েও দাঁড়াচ্ছে না। বরং মানবাধিকারকর্মীদের সরকার মাঝে মাঝে রাষ্ট্রদ্রোহী বলে অভিহিত করছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, মানবাধিকারকর্মীরা সংবিধান মেনে নিয়েই মানুষের মুক্তির জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তাহলে তারা রাষ্ট্রদ্রোহ হয় কী করে?’ তিনি বলেন, ‘আমাদের স্বাধীনতার মুক্তির সনদেও মানুষের মুক্তির কথা বলা আছে। বরং যারা তাদের রাষ্ট্রদ্রোহী বলেন, তারাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপক্ষে কথা বলছেন।’
অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার মিস. পেনি মর্টন বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ান সরকার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় খুব তৎপর।’ তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া সরকার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষণাপত্র (ইউএনড্রিপ) সমর্থন করেছে। এদেশেও অস্ট্রেলিয়ান সরকার বাংলাদেশ সরকার ও এনজিওগুলোর সঙ্গে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীল অধিকার নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। আগামী বছর থেকে অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ড বৃত্তিতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য ১০ শতাংশ কোটা সংরক্ষিত থাকবে।’
সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ‘বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম’-এর সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিব দ্রং, কাপেং ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ও ‘জাতীয় আদিবাসী পরিষদ’-এর সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন, কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা প্রমুখ।